বিমান পরিষেবার অস্কারখ্যাত স্কাইট্র্যাক্সের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ইউরোপ। ১৯৯৯ সাল থেকে লন্ডনভিত্তিক এই সংস্থা প্রতিবছর বিশ্বসেরা বিমান সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ ‘৫-স্টার’ রেটিং দিয়ে আসছে। কোনো ধরনের গ্রাহক রিভিউ অথবা জনমতের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং কঠোর অডিট ব্যবস্থার মাধ্যমে স্কাইট্র্যাক্স এই রেটিং নির্ধারণ করে। এবারের তালিকায় ইউরোপের কোনো এয়ারলাইনসের নাম নেই। শীর্ষ ১০টি স্থানের সব কটিই দখল করে নিয়েছে এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিমান সংস্থাগুলো।
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনসগুলো যেভাবে তাদের সেবাগুলোতে বিনিয়োগ করছে, ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী ক্যারিয়ারগুলো সেখানে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে। পিছিয়ে পড়ার জায়গাগুলো হলো বিলাসবহুল সেবা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিখুঁত সময়ানুবর্তিতা। একটি বিমান সংস্থার জন্য ৫-স্টার রেটিং পাওয়া শুধু ব্যবসার প্রসার নয়, এটি আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতিও বটে। ইউরোপীয় এয়ারলাইনসগুলোর এই তালিকা থেকে ছিটকে পড়া প্রমাণ করে, আকাশপথের রাজত্ব এখন পুরোপুরি এশিয়ার দখলে।
যেভাবে মেলে মর্যাদাপূর্ণ ‘৫-স্টার’ রেটিং
স্কাইট্র্যাক্স কোনো সাধারণ রিভিউ ওয়েবসাইটের মতো কাজ করে না। তাদের মতে, সাধারণ যাত্রীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা একেক রকম হতে পারে। তাই বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য এটি যথেষ্ট নয়। তাই প্রতিষ্ঠানটি বিমানের ‘ফ্রন্ট-লাইন’ বা সরাসরি দৃশ্যমান বিষয়গুলোর গুণগত মান পরীক্ষা করে। এর মধ্যে রয়েছে অনবোর্ড ও এয়ারপোর্ট পরিবেশ। এর মধ্যে থাকে বিমানের ভেতরের আসন, পরিচ্ছন্নতা,
খাবার-দাবারের মান থেকে শুরু করে বিমানবন্দরের লাউঞ্জ ও চেক-ইন সুবিধা। এরপর তারা যাচাই করে বিমান সংস্থার পুরো ফ্লিট বা বহরের সব বিমানে একই মানের সেবা বজায় থাকছে কি না। ৫-স্টার পেতে হলে সব ক্যাটাগরিতেই যে ১০০ তে ১০০ পেতে হবে, তা নয়। তবে প্রধান প্রধান সূচকে ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
সেরা ১০-এর তালিকায় যারা
- অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ, জাপান: টানা ১৩ বছর ধরে এই কৃতিত্ব ধরে রেখেছে এয়ারলাইনসটি। বিশ্বমানের গ্রাহকসেবা এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় চাহিদা পূরণের দক্ষতাই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।
- আশিয়ানা এয়ারলাইনস, দক্ষিণ কোরিয়া: ইনচন বিমানবন্দরের চমৎকার ব্যবস্থাপনা এবং কেবিন ক্রুদের আন্তর্জাতিক মানের সেবা দেওয়ার কারণে তারা এই তালিকায় আসতে পেরেছে। চলতি বছরের শেষের দিকে এটি কোরিয়ান এয়ারের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে।
- ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ, হংকং: হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চমৎকার গ্রাউন্ড সার্ভিস এবং ফ্লাইটের ভেতরে বিশ্বমানের খাবার ও সিটিং সুবিধার জন্য তারা প্রশংসিত।
- ইভিএ এয়ার, তাইওয়ান: টানা ১১ বছর ধরে ৫-স্টার রেটিং ধরে রাখা এই এয়ারলাইনস ফ্লাইটের নিরাপত্তা, ক্রুদের পেশাদারি এবং নিখুঁত পরিচ্ছন্নতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
- হাডান এয়ারলাইনস, চীন: বিজনেস এবং ইকোনমি—উভয় ক্লাসেই চমৎকার ইন-ফ্লাইট ডাইনিং এবং প্রধান হাবগুলোতে তাদের নিজস্ব লাউঞ্জের রাজকীয় সুবিধার জন্য স্কাইট্র্যাক্স তাদের এই রেটিং দিয়েছে।
- জাপান এয়ারলাইনস, জাপান: টানা পাঁচ বছর ধরে সেরা তালিকায় থাকা এই বিমান সংস্থা যাত্রী নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতার ওপর জোর দিয়ে এমন সাফল্য অর্জন করেছে।
- কোরিয়ান এয়ার, দক্ষিণ কোরিয়া: এদের ইকোনমি ক্লাসের মান সাধারণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। ক্রুদের কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তরিক সেবা তাদের এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
- কাতার এয়ারওয়েজ, কাতার: পৃথিবীর প্রথম সারির ৫-স্টার এয়ারলাইনসগুলোর একটি। আসনব্যবস্থা, আধুনিক অ্যামেনিটিজ এবং বিশ্বসেরা আতিথেয়তার ধারা তারা বছরের পর বছর ধরে বজায় রেখেছে।
- সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর: বিমান ভ্রমণের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে এই এয়ারলাইনস। তাদের চাঙ্গি বিমানবন্দর হাব এবং দূরপাল্লার ফ্লাইটে ইকোনমি থেকে শুরু করে ফার্স্ট ক্লাস—সবখানেই ইনোভেশন কিংবা নতুনত্বের ছোঁয়া স্পষ্ট।
- স্টারলাক্স এয়ারওয়েজ, তাইওয়ান: মাত্র ৬ বছর আগে যাত্রা শুরু করেও আধুনিক ফ্লিট (যেমন A350-900) এবং কেবিন ক্রুদের দারুণ পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে তারা রাজকীয় এই ক্লাবে যোগ দিয়েছে।
সূত্র: ইউরো নিউজ, আফ্রিকা নিউজ