একমাত্র বিমানই মানুষকে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুব দ্রুত পৌঁছে দিতে পারে। কিছু মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে ছুটে বেড়ান। ব্যস্তবাগীশ জীবনে বিমানভ্রমণ অনেকটাই রুটিন হয়ে পড়ে। আবার দীর্ঘক্ষণ ভ্রমণে আনন্দ থাকে না, বিরক্তি ও ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।
অথচ অনেকে মোটেই তাড়াহুড়ো কিংবা চাপ নিতে পছন্দ করেন না। অল্প দূরত্বের পথটুকু বেশ আয়েশ করে, নিরুদ্বেগে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন। নিম্ন আকাশ থেকে জনপদ, পাহাড়-নদী ইত্যাদি দেখাও একরকম আনন্দ। সেই আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে চান না তাঁরা।
সেদিকে খেয়াল রেখেই বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক এয়ার শিপ বা বেলুন জাহাজ পরিষেবা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে স্পেনের আঞ্চলিক এয়ারলাইন এয়ার নস্ট্রাম। এই প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ নির্মাতা হাইব্রিড এয়ার ভেহিক্যালস থেকে প্রতিটি ১০০ আসনের ১০টি এয়ার শিপ কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এয়ার নস্ট্রাম ২০২৬ সাল থেকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। শুধু স্পেন নয়, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং যুক্তরাজ্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এয়ার শিপ পরিষেবার উদ্যোগ নিয়েছে জোরেশোরে। অচিরেই আকাশে ভেসে বেড়াবে নানা রঙের দৃষ্টিনন্দন নকশার সব বেলুন জাহাজ।
বেলুন জাহাজ হচ্ছে বিশাল এক বেলুন, যা ইচ্ছামতো চালানো যায়। লম্বায় প্রায় ৭৫ মিটার বা ২৫০ ফুট—একটি আস্ত এয়ারবাস ৩৮০-এর সমান। উচ্চতায় প্রায় ১৭ মিটার বা ৫৫ ফুট, অর্থাৎ একটি পাঁচতলা বাড়ির উচ্চতার সমান। প্রস্থে ২০ মিটার বা ৬৫ ফুট, যা চার লেনের সড়কের প্রস্থ। বেশ পুরু ও ভীষণ শক্ত আবরণে এই দানবাকৃতির বিশাল বেলুন পূর্ণ করা হয় বাতাসের চেয়ে হালকা গ্যাস হিলিয়াম দিয়ে। আর সামনে এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হয় বিদ্যুৎ-চালিত প্রপেলার। এর পেটের নিচে সংযুক্ত করা হয়েছে যাত্রীদের জন্য বিলাসবহুল অত্যাধুনিক কেবিন। বেলুন জাহাজ কম করে ৩ হাজার মিটার বা ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় নিম্ন আকাশে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বা ৬০ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম।
নিরাপদ, আরামদায়ক, পরিবেশবান্ধব, খরচ সাশ্রয়ী, শব্দহীন এই বেলুন জাহাজের জন্য বিমানবন্দরের প্রয়োজন হয় না। নদী, হ্রদ, অর্থাৎ পানিতে বা খোলা মাঠে অনায়াসে অবতরণ এবং উড্ডয়ন করতে পারে এগুলো। এমন সব সুবিধা বিবেচনায় বিভিন্ন বিমান পরিবহন সংস্থা এয়ার শিপ পরিষেবার উদ্যোগ নিয়েছে। অচিরেই স্বল্প দূরত্বে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহনে নতুন করে চমক দেবে এয়ার শিপ বা বেলুন জাহাজ।