ওজন কমানোর ওষুধের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় বিশ্বজুড়ে কসমেটিক সার্জারির বাজারে পরিবর্তন আসছে। অস্ত্রোপচার ছাড়াই ওজন কমানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় লিপোসাকশনসহ বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার চাহিদা কমছে। তবে দ্রুত ওজন কমানোর পর ত্বক ঝুলে যাওয়া ও শরীরের আকৃতিতে পরিবর্তনের কারণে ফেসলিফট, বডিলিফট ও স্তন উন্নত করার মতো অস্ত্রোপচারের চাহিদা বাড়ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অ্যাসথেটিক প্লাস্টিক সার্জনসের (আইএসএপিএস) সাম্প্রতিক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। ৫১টি দেশের ২ হাজার ৯০০-এর বেশি প্লাস্টিক সার্জনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৭৯ লাখ অস্ত্রোপচারভিত্তিক কসমেটিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, ২০২৫ সালে পুরুষদের কসমেটিক সার্জারির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ কমেছে। নারীদের ক্ষেত্রে কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালেও নারীদের কসমেটিক সার্জারির চাহিদা ৪ শতাংশ কমেছিল।
২০২৫ সালে লিপোসাকশনের চাহিদা কমেছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগের বছর কমেছিল ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। স্তন বড় করার অস্ত্রোপচার ও বোটক্সের চাহিদাও নিম্নমুখী। ২০২৪ সালে উভয় প্রক্রিয়ার চাহিদা ১৭ শতাংশ কমার পর ২০২৫ সালে স্তন বড় করার অস্ত্রোপচারে আরও ২ শতাংশ ও বোটক্সে ৭ শতাংশ পতন হয়েছে।
দুবাইয়ের কোকুনা সেন্টার অব অ্যাসথেটিক ট্রান্সফরমেশনের প্রধান নির্বাহী ও সার্জন সঞ্জয় পারাশার বলেন, ওজন কমানোর ওষুধের সহজলভ্যতা কসমেটিক চিকিৎসার চাহিদা বদলে দিচ্ছে। মুখ ও শরীরের জেদি চর্বি কমাতে এসব ওষুধ কার্যকর হওয়ায় লিপোসাকশনের প্রয়োজন কমছে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ঝুলে যাওয়া ত্বক অপসারণ এবং মুখ ও শরীরের ত্বক টানটান করার অস্ত্রোপচারের চাহিদা বাড়ছে।
সঞ্জয় পারাশার আরও বলেন, ভবিষ্যতে জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ আরও সহজলভ্য হলে এ পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনটি হরমোন রিসেপ্টরে কাজ করা পরীক্ষাধীন ওষুধ রেটাট্রুটাইড ওজন সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে বলে প্রাথমিক পরীক্ষায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ওষুধটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এখনো হয়নি।
পারাশারের মতে, ওজন কমানোর ওষুধের অগ্রগতি সত্ত্বেও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ফিরিয়ে আনার কার্যকর চিকিৎসা এখনো নেই। ফলে ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় কসমেটিক সার্জারির চাহিদা থাকবে।
এদিকে, দুবাইয়ের আরেক প্লাস্টিক সার্জন দিমিত্রি মেলনিকভ বলেন, মানুষ এখন তুলনামূলক ছোট ও স্বাভাবিক আকৃতির স্তনের প্রতি বেশি আগ্রহী। মুখে অতিরিক্ত ফিলার ব্যবহারের বদলে ত্বকের গুণমান ও শরীরের নিজস্ব কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর চিকিৎসাও জনপ্রিয় হচ্ছে। জরিপে এক বছরে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলারের চাহিদা প্রায় ২৫ শতাংশ কমার তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বখ্যাত প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান লরিয়ালের প্রধান নির্বাহী নিকোলা হিয়েরোনিমাসও বলেছেন, ওজন কমানোর ওষুধ সৌন্দর্যশিল্পে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। দ্রুত ওজন কমার পর ত্বক ঝুলে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি জিএলপি-১ ওষুধের পাশাপাশি ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করছে।
অন্যদিকে, দুবাইয়ের এনএমসি রয়্যাল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জন বিকাশ ভার্মার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি, তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা ও দ্রুত ফল পাওয়া যায় এমন আক্রমণাত্মক চিকিৎসার প্রতি আগ্রহও অস্ত্রোপচারের চাহিদা কমার কারণ।
জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় অস্ত্রোপচার ছিল চোখের পাতার সার্জারি। এ ধরনের অস্ত্রোপচার হয়েছে ২৪ লাখ ৬০ হাজারটি।