হোম > জীবনধারা > রূপবটিকা

বয়সভেদে নারীর মেকআপ

শারমিন কচি 

ছবি: আজকের পত্রিকা

ত্বকে মেকআপ নেওয়ার ব্যাপারে একেবারেই যাঁরা উদাসীন, তাঁদের ড্রেসিং টেবিলেও যত্নে রাখা থাকে সাধের সাজ বাক্সটি। রোজ না হলেও বিশেষ দিনে খানিক মেকআপ করতে ভুল হয় না এতটুকু। কিন্তু মেকআপের বেলায় কালের ধারা বইতে গিয়ে ব্যক্তিত্বের অনিষ্ট যাতে না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, মেকআপ এমন হওয়া প্রয়োজন, যা আমাদের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলবে। ব্যক্তিত্ব, বয়স, পেশা, রুচি সবকিছু ফুটে ওঠে, এমন মেকআপ করা উচিত। সবার আগে ভাবতে হবে নিজের সঙ্গে কী মানিয়ে যায় আর কোনটা অতিমাত্রার হয়ে দাঁড়ায়; যেমন অফিসে ভারী মেকআপ করে আসা সংগত নয় আবার অনুষ্ঠানেও এমন কড়া মেকআপ করা উচিত নয়, যা নিজস্বতাকে ছাপিয়ে যায়। তাহলে বয়সভেদে কেমন হবে নারীর মেকআপ? জেনে নিন এখানে—

বয়ঃসন্ধিকালে

উঠতি বয়সে নিজেদের লুকের ব্যাপারে মেয়েরা সচেতন হতে শুরু করে। তবে বয়ঃসন্ধিকালে কিশোরীদের ত্বকে র‍্যাশ, ব্রণসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয় বলে খুব বেশি মেকআপ করা যাবে না। ত্বকের ধরন অনুযায়ী খুব হালকা মেকআপ করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ত্বকে প্রাইমার লাগিয়ে তার ওপর ফেস পাউডার বেস করে গালে স্কিন কালারের মতো হালকা ব্লাশন বুলিয়ে নিলে সুন্দর দেখাবে। চাইলে টি জোনে হালকা করে হাইলাইটার লাগানো যায়। আর অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় চোখের পাপড়িতে ঘন করে মাশকারা লাগাতে হবে ও ঠোঁটে লাগানো যেতে পারে হালকা রঙের লিপস্টিক। অতিরিক্ত সাজ এই বয়সের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে।

তরুণীদের জন্য

এই বয়সের নারীরা কোন ধরনের মেকআপ করবেন, তা নির্ভর করছে তাঁদের পেশার ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া হলে এক রকম আবার কর্মজীবী হলে আরেক রকম মেকআপ করতে হবে। এখানে প্রতিদিন বের হওয়ার জন্য এক রকম মেকআপ আবার বিশেষ দিনের জন্যও মেকআপটা ভিন্ন হবে। একজন কর্মজীবী নারীকে যেহেতু রোজ অফিসে যেতে হয়, সে ক্ষেত্রে অফিস অ্যাটেয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে ন্যাচারাল মেকআপ নিতে হবে। ত্বকে হালকা বেস মেকআপ করে চোখে কাজল, আইলাইনার ও মাশকারা দিলেই যথেষ্ট। যদি আইশ্যাডো ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে, সে ক্ষেত্রে চোখে লাগে না এমন হালকা বাদামি আইশ্যাডো লাগানো যেতে পারে।

ছবি: আজকের পত্রিকা

৩৫-এর পরে

এই বয়সের পর ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমতে থাকে। ফলে মেকআপ করার ক্ষেত্রে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মেকআপ এড়িয়ে চলতে হবে। এই বয়সে যত হালকা মেকআপ করা যায়, ততই স্নিগ্ধ লাগে। সে ক্ষেত্রে লিকুইড বেসে ভরসা রাখতে হবে। এ সময়ে মেকআপ করার চেয়ে ত্বকের সুস্থতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এমন মেকআপই বেছে নিতে হবে, যাতে ব্যক্তিত্ব মেকআপের আড়ালে ঢেকে না যায়।

ছবি: আজকের পত্রিকা

সামাজিক অনুষ্ঠানে

অনুষ্ঠানের জন্য মেকআপ করার ক্ষেত্রে একটু গাঢ় রংকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। টকটকে লাল ম্যাট লিপস্টিক লাগানো যেতেই পারে। কিন্তু সেটা ক্যারি করতে না পারলে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। লাল রং শক্তি, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে। আবার লাল রং এড়িয়ে আপনি যদি কালো রঙের আইশ্যাডো চোখের পাতায় ব্যবহার করেন আর ঠোঁটে বুলিয়ে নেন ন্য়ুড শেডের লিপ কালার, তাহলেও কিন্তু বোল্ডনেসের ঘাটতি থাকবে না।

জেনে রাখা ভালো

মেকআপ করার আগে মুখের ত্বক ভালোভাবে ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে, ভালোভাবে ময়শ্চারাইজার মেখে নিতে হবে। ময়শ্চারাইজার লাগানোর ২-৩ মিনিট পর ত্বকে প্রাইমার লাগাতে হবে। এর কিছুক্ষণ পর হালকা করে ফাউন্ডেশন লাগানো যেতে পারে। আর কেউ যদি ফাউন্ডেশন লাগাতে না চান, তাহলে সরাসরি ফেস পাউডার লাগাতে পারেন প্রাইমারের ওপর। এরপর ব্লাশন, হাইলাইটার ও অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে। একটা কথা মনে রাখা জরুরি, মেকআপ হালকা হোক বা ভারী অবশ্যই সেটিং স্প্রে দিয়ে মেকআপ সেট করে নিতে হবে।

লেখক: রূপবিশেষজ্ঞ ও স্বত্বাধিকারী, বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ার

চোখের পাপড়ি ঝরা রুখে দিতে মাসকারা তোলার সঠিক উপায়

ইরানি নারীদের রূপ-লাবণ্যের রহস্য লুকিয়ে আছে প্রাকৃতিক উপাদানে

আরব্য মেকআপের চিরায়ত আভিজাত্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

জেনে নিন, রূপচর্চার আরব্য রহস্য

শুধু চপ তৈরিতেই নয়, ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা যায় আলু

এ সময়ের চুলের যত্নে জেনে নিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ত্বক ও চুলের পানিশূন্যতা এড়াতে ইফতার ও সেহরি যেমন হবে

ছোলার ডালের বেসনে রূপচর্চা

সৌন্দর্যচর্চায় বেসন

ইফতারের দাওয়াতে পরিপাটি সাজ