রমজান মানেই ইফতারে খেজুরের সমারোহ। সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরের ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই ফলের কিছু জাত অত্যন্ত বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, যেগুলোর দাম সাধারণের নাগালের বাইরে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গাল্ফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরুভূমির অভ্যন্তরে কম আর্দ্রতাযুক্ত অঞ্চলে উৎপাদিত খেজুর গুণগত মানে ও আকারে উপকূলীয় অঞ্চলের চেয়ে উন্নত হয়। এ ছাড়া সংগ্রহের পর শুকানোর প্রক্রিয়া এবং প্যাকেটজাত করার পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেও এর বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়।
মদিনার এই খেজুরকে বলা হয় ‘পবিত্র খেজুর’। এর বিশেষত্ব হলো নরম বুনট এবং মসলাযুক্ত ক্যারামেল স্বাদ। ট্রাভেল+লিজারের তথ্যমতে, সীমিত উৎপাদন এবং অত্যন্ত নিখুঁত সেচব্যবস্থার প্রয়োজন হওয়ায় এই খেজুরের দাম অনেক বেশি।
‘খেজুরের রাজা’ হিসেবে পরিচিত মেজজুল একসময় ছিল শুধু রাজপরিবারের সদস্যদের খাবার। মরক্কোর তাফিলাল্ট অঞ্চল থেকে আসা এই খেজুর এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাষ হয়। এর পুরু শাঁস এবং অত্যন্ত মিষ্টি স্বাদের জন্য এটি বিশ্ববিখ্যাত।
পাতলা চামড়া এবং টফি বা পোড়া ক্যারামেলের মতো স্বাদের জন্য একে ‘চকলেট খেজুর’ বলা হয়। এটি মেজজুল বা বারহি খেজুরের চেয়েও বেশি মিষ্টি এবং অত্যন্ত দুর্লভ এক জাত।
অর্ধ-স্বচ্ছ সোনালি রঙের জন্য একে ‘খেজুরের রানি’ বলা হয়। আলজেরিয়ার তোলগা মরূদ্যান থেকে আসা এই খেজুরের স্বাদ ঠিক যেন মধুর মতো। বর্তমানে উত্তর আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশেও এর চাষ হচ্ছে।
আরবি শব্দ ‘সুক্কুর’ (চিনি) থেকে এর নাম এসেছে। এটি মুখে দিলেই গলে যায়। এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে—আধা শুষ্ক ‘রুতাব’ এবং সম্পূর্ণ শুষ্ক ‘মুফাত্তাল’। দুটিরই চাহিদা বিশ্ববাজারে আকাশচুম্বী।
মধ্যপ্রাচ্যের আতিথেয়তার প্রতীক এই খেজুর সাধারণত আরবি কফির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি এর মাখনের মতো ক্রিমি স্বাদ একে অনন্য করে তুলেছে
লম্বাটে গড়ন এবং কিছুটা চিউয়ি বা চিবিয়ে খাওয়ার মতো বুনট এই খেজুরের বৈশিষ্ট্য। এতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি কম থাকে, যা স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য সেরা পছন্দ।
এই খেজুরের বিশেষত্ব হলো এর পাকার বিভিন্ন ধাপ। কাঁচা অবস্থায় এটি আপেলের মতো কুড়মুড়ে স্বাদের হয়। তবে পেকে যাওয়ার পর এটি কালচে রং ধারণ করে এবং খেতে তখন গভীর ক্যারামেল ও টফির মতো লাগে।
আজওয়া খেজুরের পাশাপাশি সাফাভিও বেশ জনপ্রিয়। এর মিষ্টি মেজজুলের চেয়েও বেশি বলে অনেকের ধারণা। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও বেশ কার্যকর।
যাঁরা খুব বেশি মিষ্টি পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য খেনাইজি সেরা। এটি আয়রন, পটাশিয়াম এবং সোডিয়ামসমৃদ্ধ। এ ছাড়া এতে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।