বিশ্বকাপ ফুটবল এমনই একটি আয়োজন, যা বিশ্বের সব প্রান্তেই উৎসবের আমেজ তৈরি করে দেয়। ফুটবলপ্রেমীরা তো বটেই, এর বাইরেও অনেক মানুষ টিভির সামনে বসে যায় ৯০ মিনিটের এই খেলা দেখার জন্য। এবারের বিশ্বকাপের খেলাগুলো কোনোটা হচ্ছে রাত ১০টায়, কোনোটা রাত ১টায়, কোনোটা আবার ভোর ৪টায়। আর এই খেলাগুলো দেখে পরদিন অফিস করতেই ঘটছে বিপত্তি। রাতে খেলা দেখে সকালে অফিসে আসছে ঝিমুনি। কাপের পর কাপ কফি পান করে বা চা খেয়েও চোখের পাতার ভারী ভাব দূর করা যাচ্ছে না। তাই কিছু কৌশল অবলম্বন করতেই হবে। কফি ছাড়াও অফিসে কাজের মাঝখানে নিজেকে সজাগ, চনমনে এবং কর্মক্ষম রাখার কিছু কৌশল আছে। কারণ, অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরের ক্ষতি তো করেই, উল্টো কাজের মনোযোগও কমিয়ে দেয়।
কাজে বসার আগে একটু হাঁটুন। অফিসে রওনা হওয়ার আগে সকালের মিষ্টি রোদে এবং তাজা বাতাসে কিছুক্ষণ হেঁটে নিন। যাঁরা শিফট অনুযায়ী বা রাতে কাজ করেন, তাঁরা কাজ শুরুর আগে ১০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা পাওয়ার ন্যাপ দিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার ক্লান্তি দূর করে নিমেষেই চাঙা করে তুলবে। একটানা এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। আবার আগের রাতে যদি খেলা দেখে ঘুম কামাই করে থাকেন, তাহলে তো কথাই নেই। তাই প্রতি কয়েক ঘণ্টা পর পর একটু ডেস্ক ছেড়ে উঠুন। ফোনে কথা বলার সময় হেঁটে হেঁটে কথা বলুন কিংবা সম্ভব হলে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
কাজের জায়গা রাখুন আলোঝলমলে। এই কাজটা সব সময়ের জন্যই করুন। দিনের বেলা জানালার পর্দা সরিয়ে ঘরের ভেতর প্রাকৃতিক আলো আসতে দিন। আর যদি রাতে বা কম আলোর জায়গায় কাজ করতে হয়, তবে উজ্জ্বল আলো যেমন এলইডি বা কড়া সাদা আলো জ্বালিয়ে রাখুন। আলো সরাসরি আমাদের মস্তিষ্ক সজাগ রাখার সংকেত পাঠায়। ঝিমুনি কাটাতে কফির চেয়ে পানি অনেক বেশি কার্যকর। শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হলে কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং ক্লান্তি বাড়ে। তাই ডেস্কে পানির বোতল রাখুন এবং কিছুক্ষণ পর পর চুমুক দিন। যদি চা বা কফি খেতেই হয়, তবে তা আপনার শিফট বা কাজের শুরুর দিকেই সেরে নিন। কাজের শেষের দিকে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে পরে তা আপনার রাতের স্বাভাবিক ঘুমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাবে।
হাতের কাছে রাখুন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার, যেমন বাদাম, ফল, টক দই খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, কোল্ড ড্রিংকস বা ক্যান্ডি একদম এড়িয়ে চলুন। এগুলো সাময়িক শক্তি দিলেও একটু পরেই শরীর অলস করে দেয়। অফিসে ঢুকে সহজ কাজগুলো আগে সেরে নেওয়ার চেষ্টা করুন। শরীর যখন অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকে, তখন জটিল কোনো কাজে হাত দেবেন না। এই সময়ে ই-মেইলের উত্তর দেওয়া, ফাইল গোছানো বা ডেস্কটপ গোছানোর মতো সহজ কাজগুলো করুন। সহজ কাজ শেষ করার আনন্দই আপনার ভেতরের শক্তি ফিরিয়ে আনবে।
ডেস্কে সুগন্ধি মোম বা এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার রাখতে পারেন। পুদিনা, লেবু বা জেসমিনের মতো কড়া সুবাস আপনার ক্লান্তি দূর করে মন সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। চোখের ঘুম তাড়াতে হেডফোন কানে গুঁজে একটু দ্রুত লয়ের বা চনমনে গান শুনতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, গান শোনার চক্করে যেন পাশের সহকর্মীর কাজের ক্ষতি না হয়!
অফিসের এই একঘেয়ে ঝিমুনি কাটাতে আজ থেকে কফির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এই সহজ অভ্যাসগুলো রপ্ত করে নিন। শুধু বিশ্বকাপের জন্য নয়, এই কৌশলগুলো যেকোনো সময়ই ঝিমুনি কমাতে খুব ভালো কাজ করে। তাই এই বিশ্বকাপের সময় থেকেই এই কৌশলগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন।
সূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েব মেড