রাতারাতি নিখুঁত ত্বক পাওয়ার ব্যাপারটা শুধু স্বপ্নেই সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে আপনি তখনই সুন্দর, পেলব এবং নিখুঁত ত্বকের অধিকারী হবেন, যখন ত্বকের বাহ্যিক পরিচর্যার পাশাপাশি যত্ন নেবেন মনেরও। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, লাগাতার মানসিক চাপের কারণে মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ত্বকের ওপরেও তার প্রভাব পড়তে থাকে। অনেক স্নায়ুর শেষ প্রান্ত আমাদের ত্বকে এসে মেশে। এর ফলে ত্বকের পরিস্থিতির সঙ্গে মানসিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক যে কত দূর, তা সহজে অনুমেয়।
চিকিৎসক, কাউন্সেলর এবং সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘মনের বিভিন্ন ধরনের অসুখ আমাদের ত্বকে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে। যেমন মুখে বলিরেখা পড়লে কিংবা ত্বকে কালো দাগ হলে অনেকেই কসমেটিক চিকিৎসার সাহায্য নেন। কিন্তু কারণ খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, ‘মানসিক সমস্যায় ত্বকের জৌলুশ কমছে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল শরীরের অঙ্গ, ধমনি ও কোষের পুনর্গঠনে বাধা দেয়। মানসিক চাপ বেশি হলে এই হরমোন অত্যধিক হারে নির্গত হয়। ফলে ত্বক নষ্ট হতে থাকে।’
সানজিদা শাহরিয়া আরও জানান, অনেক সময় ত্বকের রক্তনালিতে হাইড্রোজেন ও পুষ্টি সরবরাহে বাধা তৈরি হয়, ত্বকের কোষের জীবনচক্রে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে ত্বক নির্জীব হয়ে পড়ে।
আর কী কী কারণে ত্বকের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, সেগুলোর জানতে চাচ্ছেন? আসুন, জেনে নিই—
■ অবসাদ ও বিষণ্নতা দ্রুত বার্ধক্য় এনে দেয়
অবসাদ, উদ্বেগ, বিষণ্নতায় মুখের ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে। বহুদিন অবসাদে ভুগলে ত্বকে তার প্রভাব পড়ে। ত্বক সহজে তার ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে উঠতে পারে না। হরমোনের তারতম্যের ফলে অনেকের ঘুম কমে যায়। ফলে চোখের চারপাশে কালচে এবং ফোলা ভাব দৃশ্যমান হয়।
■ অতিরিক্ত রাগে কোলাজেন উৎপাদন বাধাপ্রাপ্ত হয়
রাগ হলে মুখের পেশি দৃঢ় হয়ে ওঠে, ফুটে ওঠে সূক্ষ্ম রেখা। ফলে ত্বকের আরোগ্য লাভের ক্ষমতা এবং পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া—দুটোই কমে যেতে থাকে। পাশাপাশি কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং কোলাজেন উৎপাদন বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে।
তাহলে উপায়? সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘যতটা সম্ভব নেতিবাচক চিন্তা মন থেকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে হবে। প্রিয় কাজগুলো বেশি বেশি করা চাই। দরকার পর্যাপ্ত ঘুম। দিনের একটা সময় মেডিটেশন করা ভালো। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ফল ও পানিও রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।’
■ মনের যত্নে আর কী করণীয়
এভারগ্রিন ইয়োগা সেন্টারের যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক শামা মাখিং বলেন, ‘আমাদের মনের সঙ্গে ত্বকের সম্পর্ক খুবই গভীর। মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার প্রভাব পড়ে ত্বকে। শারীরিক ডিটক্স আমাদের ত্বক পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনাচরণ মেনে চললে ত্বক এমনিতেই ভেতর থেকে সুস্থ থাকে।’
প্রাণায়াম কিংবা যোগব্যায়াম শরীর ফিট রাখার পাশাপাশি মন ও ত্বক ভালো রাখে। শামা মাখিং বলেন, যোগব্যায়ামের বিশেষ কিছু আসন; যেমন বালাসন, সর্বাঙ্গাসন, চক্রাসন, তাদাসন ইত্যাদি মানসিক চাপ কমায়। তবে এগুলো তখনই সঠিকভাবে কাজে দেবে, যখন এসব আসন অনুশীলনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের ওপরও নজর দেওয়া হবে। লাবণ্যদীপ্ত ত্বকের জন্য মন ফুরফুরে রাখা চাই। তাই শামা মাখিং বলেন, ‘যা করবেন, আনন্দের সঙ্গে করবেন। নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করবেন সব সময়। তবেই ত্বক থাকবে মনের মতো সুন্দর।’