হোম > জীবনধারা > ফিচার

সুস্থ স্ক্যাল্প ও সুন্দর চুলের জন্য জাপানিজ হেয়ার ব্রাশ যে কারণে জনপ্রিয়

ফিচার ডেস্ক

ব্রাশের মৃদু ম্যাসাজ স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে ও চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস

আমরা অনেকেই চুল আঁচড়ানোর কাজটিকে কেবল জট ছাড়ানোর একটি সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাস বলেই মনে করি। কিন্তু জানেন কি, এই চুল আঁচড়ানোই আপনার স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকের গভীর সুরক্ষার মূল রহস্য? রূপচর্চায় জাপানিজ বিউটি বা জে-বিউটির মূল দর্শনই হলো ত্বককে অগ্রাধিকার দেওয়া। আমাদের স্ক্যাল্পও মূলত ত্বকেরই একটি অংশ, যার নিজস্ব প্রোটিন ব্যারিয়ার ও হেয়ার ফলিকল রয়েছে। শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের মতো মাথার ত্বকেও প্রতিদিন ঘাম, অতিরিক্ত সিবাম বা প্রাকৃতিক তেল, মৃত কোষ এবং নানা ধরনের হেয়ার প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ জমা হতে থাকে। স্ক্যাল্পের এই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন বিশ্বজুড়ে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিশেষ ডিজাইনের জাপানিজ হেয়ার ব্রাশ।

সাধারণ হেয়ার ব্রাশের সঙ্গে জাপানিজ ব্রাশের পার্থক্য যেখানে

সাধারণ চিরুনি বা চিরচেনা প্যাডেল ব্রাশের সঙ্গে জাপানিজ স্ক্যাল্প ব্রাশের মূল তফাত লুকিয়ে আছে এর গঠন ও অনন্য ব্রিসল প্রযুক্তিতে। জাপানিজ স্ক্যাল্প ব্রাশে অত্যন্ত সূক্ষ্ম, নমনীয় ও বিভিন্ন উচ্চতার ব্রিসল ব্যবহার করা হয়। ব্রাশের লম্বা ব্রিসলগুলো ঘন চুলের ভেতর দিয়ে সহজে স্ক্যাল্প পর্যন্ত পৌঁছে ত্বকে আলতো ম্যাসাজ সরবরাহ করে। অন্যদিকে খাটো ব্রিসলগুলো চুলে জমে থাকা জট ছাড়ায় এবং শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক চুলের একদম গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। সাধারণ শক্ত ব্রিসল মাথার ত্বকে আঁচড় কাটতে পারে, কিন্তু জাপানিজ স্ক্যাল্প ব্রাশের নমনীয় ব্রিসলগুলো স্ক্যাল্প ব্যারিয়ারের কোনো ক্ষতি না করেই আরামদায়ক স্পর্শ দেয়।

ব্রাশের লম্বা ব্রিসলগুলো ঘন চুলের ভেতর দিয়ে সহজে স্ক্যাল্প পর্যন্ত পৌঁছে ত্বকে আলতো ম্যাসাজ সরবরাহ করে। ছবি: পেক্সেলস

কেন প্রতিদিনের পরিচর্যায় জাপানিজ ব্রাশ যুক্ত করবেন

একটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল স্ক্যাল্পই হলো ঝলমলে চুলের আসল ভিত্তি। শুধু আঙুলের ডগা দিয়ে শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্পের দুর্গম কোণের সব ময়লা পুরোপুরি দূর হয় না। তাই প্রতিদিনের পরিচর্যায় জাপানিজ ব্রাশ যুক্ত করা জরুরি।

গভীর ডিটক্সিফিকেশন: শ্যাম্পু করার সময় জাপানিজ ব্রাশ ব্যবহার করলে তা আঙুলের চেয়েও দক্ষতার সঙ্গে স্ক্যাল্পের গভীরে জমে থাকা ময়লা, অতিরিক্ত তেল ও প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ বের করে আনে।

ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক বা ট্রিটমেন্ট লাগানোর পর জাপানিজ ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নিলে উপাদানগুলো চুলের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে পৌঁছে যায়। ছবি: পেক্সেলস

রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি: ব্রাশের মৃদু ম্যাসাজ স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

স্পার মতো প্রশান্তি: নিয়মিত ব্যবহারে এটি মাথার ক্লান্তি দূর করে সাধারণ ওয়াশ ডে-র অভিজ্ঞতাকে ঘরের ভেতরের এক বিলাসবহুল হেড স্পা সেশনে পরিণত করে।

চুল ভাঙা রোধ: ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে ভঙ্গুর থাকে। জাপানিজ ব্রাশ চুলে না টেনে আলতোভাবে জট ছাড়ায়, ফলে চুল ছেঁড়ার ঝুঁকি থাকে না।

জাপানিজ হেয়ার ব্রাশ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

এই ব্রাশের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি অত্যন্ত বহুমুখী ও হেয়ার কেয়ার রুটিনের যেকোনো ধাপে ব্যবহারযোগ্য। শ্যাম্পু করার আগে শুকনো চুলে আলতোভাবে ব্রাশ চালিয়ে জট ছাড়িয়ে নিন এবং স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে নিন। শ্যাম্পু ব্যবহারের পর ব্রাশটি বৃত্তাকারে পুরো স্ক্যাল্পে ঘোরান। এতে ময়লা পুরোপুরি উঠে আসবে। এ ছাড়া ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক বা ট্রিটমেন্ট লাগানোর পর এই ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে নিলে উপাদানগুলো চুলের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে পৌঁছে যায়।

সৌন্দর্যবিশ্বে জনপ্রিয় কিছু জাপানিজ ব্রাশের মধ্যে রয়েছে মুজি বিচ উড ব্রাশ, এইহোদো ইকেমোতো সিডিউস ব্রাশ, এস হার্ট এস স্ক্যাল্প ব্রাশ এবং ওয়াই.এস. পার্ক লাস্টার উড স্টাইলার ব্রাশ।

জাপানি সৌন্দর্যের মূল নিয়মানুযায়ী, কেবল বাহ্যিক তেল বা শ্যাম্পু দিয়ে সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না স্ক্যাল্প ভেতর থেকে পরিষ্কার থাকছে। তাই প্রতিদিনের অভ্যাসে যুক্ত করতে পারেন জাপানিজ হেয়ার ব্রাশ, যা আপনার চুলকে রাখবে গোড়া থেকে সতেজ, স্বাস্থ্যবান ও প্রাণবন্ত।

সূত্র: ভোগ

বিশ্ব পর্যটনে যুক্ত হয়েছে দুটি ভিন্নমাত্রার জাদুঘর

ভ্যান গগের ‘দ্য স্টারি নাইট’ চিত্রকর্মে তারার রহস্য উন্মোচন

সবুজ ছাদের শহরগুলো

ভালোবাসার যে শিক্ষা দেয় পেঙ্গুইন

জেনে নিন, ঘরে আইল্যাশ এক্সটেনশন তোলার সহজ উপায়

ষষ্ঠী থেকে দশমী ছড়িয়ে থাক ভালোবাসার অনুভব

৯০ দশকের মোহ কেন আমাদের কাটছে না

পচা দাঁত থেকে ব্লুটুথ! জেনে নিন এর পেছনের হাজার বছরের পুরোনো গল্প

কেন অনামিকাতেই আংটি পরা হয়? জানুন বিয়ের আংটির অজানা ইতিহাস

‘পোক’ দিবস, ভুল জানলেও সঠিক ইতিহাসটি জেনে নিন