হোম > জীবনধারা > ফিচার

বিশ্ব পরিবার দিবস

বদলে যাওয়া সময়ে পরিবারের সঙ্গে বন্ধন অটুট রাখুন

ফিচার ডেস্ক

সুখী পরিবার মানে নিখুঁত কোনো পরিবার নয়, বরং এটি এমন একটি পরিবার, যারা একসঙ্গে শেখে, একে অপরকে ক্ষমা করে ও ভালোবাসে। ছবি: পেক্সেলস

আজ বিশ্ব পরিবার দিবস। দিবসটিকে ঘিরে এবারের প্রতিপাদ্য—‘ফ্যামিলিস, ইনইক্যুয়ালিটিস অ্যান্ড চাইল্ড ওয়েলবিং’ অর্থাৎ পরিবার, অসমতা ও শিশুর কল্যাণ। আমাদের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা, বিশ্বায়ন আর বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরিবার দিবসটি এখন ভিন্ন এক তাৎপর্য বহন করছে। পরিবার মানেই যে শুধু বাবা-মা ও ভাই-বোন, এমন নয়। আবার পরিবার মানেই অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকা নয়। পরিবার মূলত আমরা আমাদের কাছের মানুষদেরই বলি। সুখী পরিবার মানেই নিখুঁত কোনো পরিবার নয়, বরং এটি এমন একটি পরিবার, যারা একসঙ্গে শেখে, একে অপরকে ক্ষমা করে ও ভালোবাসে। পরিবারের শান্তি কোনো দামি উপহারে নিহিত থাকে না। এর মূল শর্তই থাকে একে অপরের ওপর ভরসা রাখা। অহংকার সরিয়ে বিনয় দিয়ে, রাগ সরিয়ে ধৈর্য দিয়ে ও সমালোচনা সরিয়ে প্রশংসা দিয়ে নিজেদের ঘরকে একটি প্রকৃত ‘হোম’ বা শান্তির নীড়ে রূপান্তর করাই সুখী পরিবারের মূলমন্ত্র।

সুখী পরিবারের গোপন সূত্র আছে কি

একটি সুখী পরিবার গড়ে তোলা কোনো জটিল তাত্ত্বিক বিষয় নয়। বরং এটি প্রতিদিনের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর ধৈর্যের এক সংমিশ্রণ। পরিবারের ভিত্তি মজবুত করতে কিছু মানবিক ও ব্যবহারিক মূলনীতি অনুসরণ করা জরুরি। যেমন পরিবারে শিশুরা যা শোনে, তারচেয়ে বেশি শেখে বড়দের কাজ দেখে। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অন্যের প্রতি দয়া দেখে সন্তানেরা বড় হয়। তাই তাদের ভালো মানুষ বানাতে চাইলে আমাদের নিজেদের আচরণে সেই প্রতিফলন ঘটাতে হবে। পরিবারের সদস্যদের ছোট ছোট অর্জনেও ‘ধন্যবাদ’ দিন। ভুল হলে ‘এটা কেন করলে?’ না বলে ‘এভাবে করলে কি আরও ভালো হতো না?’—এভাবে বুঝিয়ে বলুন। কটু কথা দেয়াল তৈরি করে আর উৎসাহ তৈরি করে সেতু। ব্যস্ততার মাঝেও দিনে অন্তত একবার পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাবারের টেবিল কেবল খাবার খাওয়ার জায়গা নয়; এটি যোগাযোগ, সহানুভূতি আর হাসিখুশি গল্প বিনিময়ের পাঠশালা। পরিবারের মধ্যে ছোটখাটো ভুলকে বড় নাটকীয় ঘটনায় রূপ দেবেন না। ঘুমানোর আগে ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে দিনটি শেষ করুন। ক্ষোভ ধরে রাখা নিজের জন্যই ক্ষতির কারণ।

অসমতা ও শিশুর ভবিষ্যৎ

বর্তমান বিশ্বে বৈষম্য বাড়ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের পরিবারগুলোয়। আয়বৈষম্য, শিক্ষার অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা শিশুদের শৈশবকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাবা-মা উভয়কেই ঘরের বাইরে কাজ করতে হচ্ছে। এর ফলে সন্তানেরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শহরাঞ্চলে মানুষ নিজেদের জীবন নিয়ে এতই ব্যস্ত যে, পাড়া-প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের সঙ্গে সেই আগের মতো ‘একাত্মতা’ বা সামাজিক বন্ধন এখন আর নেই। এখন কোনো বিশেষ দিবসে পাড়ায় অনুষ্ঠান হয় না। শীতকালীন বনভোজন কিংবা ঘুরতে যাওয়ার সময়ও অনেকের কাছে থাকে না।

নতুন প্রজন্মের ভাবনা

আমাদের বর্তমান প্রজন্ম অর্থাৎ জেনারেশন জেড পরিবারের প্রতি আনুগত্যের সংজ্ঞাকে নতুনভাবে লিখছে। আগে আনুগত্য মানেই ছিল বড়দের সামনে নীরব থাকা বা বিনা প্রশ্নে আদেশ পালন করা। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম বলছে নীরবতা নয়, কথা হোক। তারা পরিবারকে ভালোবাসে, কিন্তু তার বিনিময়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি তারা চায় না। ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পরিসর প্রয়োজন’—এই স্পষ্টবাদিতা পরিবারকে ভাঙার জন্য নয়। অনেকেই একে ‘বেশি বোঝে’ বলে উড়িয়ে দিতে পারেন। এই অভ্যাসকে নেতিবাচক মনে করতে পারেন। কিন্তু এই ধরনের চর্চা আসলে সুস্থ সম্পর্ক তৈরির জন্য রসদ জোগাতে পারে। বর্তমানে অনেকেই মনে করেন, সম্মান দ্বিপক্ষীয়। ছোটরা বড়দের সম্মান করবে, কিন্তু ছোটরাও বড়দের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে। যেখানে ভয় নয়, বরং সততা ও সমবেদনা থাকবে সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

বিশ্বায়ন ও হারিয়ে যাওয়া পারিবারিক ঐতিহ্য

একসময় আমাদের যৌথ পরিবারগুলোতে দাদা-দাদি, চাচা-ফুফুদের সঙ্গে যে গল্প আর হাসাহাসির পরিবেশ ছিল, বিশ্বায়ন ও কর্মসংস্থানের কারণে তা এখন বিরল। আত্মীয়রা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শহরে বা দেশে। শারীরিক দূরত্ব তৈরি করছে মানসিক দূরত্ব। এই ডিজিটাল যুগে আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যুক্ত। যে যেখানেই থাকি, একজন অন্যজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারি। তবে এটা থাকলেও নিজের পরিবারের সঙ্গে কতটুকু অর্থবহ সময় কাটাচ্ছি, তা ভাবার সময় এসেছে। দূরদূরান্ত থেকে অনেক সময় কথা বলার ইচ্ছা থাকলেও সময় না মেলার কারণে কথা হয়ে ওঠে না।

সূত্র: মিডিয়াম, ইউএন

কেন সবাই খুঁজছেন ‘কালিনারি ক্লাস ওয়ার্স’ শেফদের?

আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন

আপনি কি জীবনের ডার্ক নাইট কাটাচ্ছেন, জেনে নিন লক্ষণ ও উত্তরণের পথ

গ্রীষ্মে কেমন সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করবেন

অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস আপনার ক্ষতি করছে কি, জেনে নিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দিনটি কাটুক মায়ের মনের মতো

স্পর্শ কি কষ্ট কমানোর ওষুধ? জেনে নিন, নিঃসঙ্গ জীবনে স্পর্শের বিকল্প কী

জীবনে আসলে কজন বন্ধু প্রয়োজন?

বিরাট কোহলির মতো সংসার করছেন কি না, বুঝবেন যে ১০টি লক্ষণ দেখে

নারী কেন রাগে, এর কারণ জানেন?