হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

মস্তিষ্কে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বেশি জায়গা নেয় কেন

ফিচার ডেস্ক

আমাদের মস্তিষ্ক কেবল পরিচিত ব্যক্তিদের একক নাম বা মুখ হিসেবে জমা রাখে না। সে বোঝে, সামাজিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণে তাদের অবস্থান কোথায়। ছবি: এআই মানুষের

মানসিকভাবে মানুষ প্রতিটি সম্পর্কের এক জটিল ছক বা মানচিত্র তৈরি করতে ওস্তাদ। কে কার অনুগত, কার সঙ্গে কার প্রতিযোগিতা কিংবা কে কখন কার বিরুদ্ধে যেতে পারে—প্রতিনিয়ত আমাদের মন এসবের হিসাব রাখে। কিন্তু সম্পর্কের এই অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা বিরোধের ছাপ বেশি স্পষ্ট হয়। কখনো ভেবে দেখেছেন, এটা কেন হয়? এর প্রধান কারণ, আমাদের মস্তিষ্ক কেবল পরিচিত ব্যক্তিদের একক নাম বা মুখ হিসেবে জমা রাখে না। সে বোঝে, সামাজিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণে তাদের অবস্থান কোথায়। এভাবেই একটি মানুষ সম্পর্কে মস্তিষ্কে একটি মানচিত্র তৈরি হয়। আর এই নিউরাল মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্কগুলো অনেক বেশি স্পষ্ট ও স্থায়ী স্থানাঙ্ক হিসেবে কাজ করে।

গবেষণা যা দেখিয়েছে

জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল এ বিষয়ে একটি চমকপ্রদ গবেষণা চালিয়েছেন। প্রফেসর তামামি নাকানোর নেতৃত্বে ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ২১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ওপর একটি পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের কেউ দেখেননি এমন একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন ড্রামা নির্বাচন করা হয় পরীক্ষার জন্য। সিরিজটির নাম ‘সুটস’। ড্রামা সিরিজটি দেখানোর আগে ও পরে মোট আটজন প্রধান চরিত্রের মুখের ছবির প্রতিক্রিয়া দেখতে অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের এফএমআরআই স্ক্যান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নাটকের ৬টি এপিসোড দেখার পর চরিত্রগুলোর নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক রেটিং করেন।

গবেষকেরা রিপ্রেজেন্টেশনাল সিমিলারিটি অ্যানালাইসিস পদ্ধতির মাধ্যমে মস্তিষ্কের নিউরাল অ্যাক্টিভিটি বিশ্লেষণ করেন। ফলাফলে দেখা যায়, মাত্র কয়েক ঘণ্টার গল্প বলা বা বিনোদনমূলক কাহিনি অচেনা মুখের প্রতি মস্তিষ্কের স্নায়বিক সাড়াকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। নাটকের গল্প জানার আগে একটি মুখ ছিল সাধারণ ছবি মাত্র। কিন্তু গল্প দেখার পর প্রতিটি চরিত্র একটি নির্দিষ্ট সামাজিক পরিচিতি পেয়ে যায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সখ্য বা বন্ধুত্বের সম্পর্কের তুলনায় বৈরী বা শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কগুলোর সময় মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল ও প্যারাইটাল অঞ্চলে অনেক বেশি স্পষ্ট নিউরাল প্যাটার্ন তৈরি হয়।

মস্তিষ্কের নিউরাল মানচিত্রে বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বা শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্কগুলো অনেক বেশি স্পষ্ট ও স্থায়ী স্থানাঙ্ক হিসেবে কাজ করে। ছবি: পেক্সেলস

মস্তিষ্কে যেভাবে আঁকা হয় শত্রুতার মানচিত্র

গবেষণায় দেখা গেছে, সখ্য বা বন্ধুত্বের সম্পর্কের চেয়ে শত্রুতাপূর্ণ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সম্পর্কগুলো মস্তিষ্কে অনেক বেশি স্পষ্ট ও শক্তিশালী নিউরাল প্যাটার্ন বা ছাপ রেখে যায়। মস্তিষ্কের মূলত দুটি নির্দিষ্ট অংশে শত্রুতার এই নিউরাল সিগনেচারগুলো বেশি সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

লেফট অ্যান্টেরিয়র সুপ্রামার্জিনাল জাইরাস: এটি সামাজিক অনুভূতি, সহমর্মিতার সীমা এবং অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

রাইট মিডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স: এটি সামাজিক জ্ঞান এবং অন্যের চিন্তাভাবনা বিশ্লেষণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

কেন বন্ধুত্বের চেয়ে শত্রুতা বেশি জায়গা নেয়

বিবর্তনগত দিক থেকে টিকে থাকার জন্য শত্রু বা প্রতিপক্ষকে আগাম অনুমান করা মানুষের জন্য বেশি জরুরি। কে বন্ধু, তার চেয়ে কে ক্ষতিকর বা হুমকি হতে পারে, তা মনে রাখা জীবনের নিরাপত্তার জন্য বেশি প্রয়োজন। বৈরী সম্পর্ক পুরো সামাজিক নেটওয়ার্কের হিসাবই বদলে দিতে পারে। তাই মন শত্রুতায় বেশি মনোযোগ দেয়। এ ছাড়া সরাসরি নিজে কোনো বিপদে না পড়েও সমাজ জীবনের শিক্ষা নেওয়ার চমৎকার সুযোগ করে দেয় গল্প বা নাটকের চরিত্রগুলো। নাটকের কোনো চরিত্র দেখলে মস্তিষ্কের প্রিকিউনিয়াস নামক অংশটি অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই অঞ্চলটি স্মৃতি, আত্ম-প্রতিফলন এবং মানুষের ভেতরের চিন্তা বিশ্লেষণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ফলে ইতিহাস বা প্রেক্ষাপট জানার পর মানুষের মুখটি কেবল একটি চেহারা থাকে না, বরং একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডারের দরজা খুলে দেয়।

আধুনিক জীবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আমরা প্রায়ই ভাবি, সংঘাত বা প্রতিযোগিতা সামাজিক সম্পর্কের ব্যর্থতা। কিন্তু বাস্তবে সহযোগিতা যেমন সমাজ গঠন করে, ঠিক তেমনি শত্রুতাই সমাজকে বেশি সুসংগঠিত করে তোলে। জটিল সামাজিক সম্পর্ক সহজে বুঝতে মস্তিষ্ক শত্রুতাকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে। তবে এই মানসিক মেকানিজমের একটি বড় বিপদও রয়েছে। বিপদ হলো, একবার বিরূপ ধারণা তৈরি হলে মন নতুন তথ্যকেও সেই শত্রুতার ভিত্তিতেই সাজাতে থাকে। এখান থেকেই সমাজে মেরুকরণ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্বেষ তৈরি হয়। এই গবেষণা কেবল মানুষের গল্প বোঝার কিংবা সামাজিক আচরণ বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষকদের মতে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিতেও এই আবিষ্কারের প্রয়োগ সম্ভব। এআই মডেলগুলোকে যদি মানুষের মতো শত্রুতা ও প্রতিযোগিতার সামাজিক টানাপোড়েন চিহ্নিত করতে শেখানো যায়, তবে তারা মানুষের আচার-ব্যবহার ও সামাজিক গতিশীলতা আরও নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পারবে।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, নিউরোসায়েন্স নিউজ

সকালের ১০ অভ্যাসে ঝরাবে মেদ

মঞ্চে উঠলেই নার্ভাস? জেনে নিন আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কিছু কৌশল

কেন আমরা ক্রিঞ্জ কনটেন্টে আসক্ত

ফ্লু থেকে সেরে ওঠার পর ঘর জীবাণুমুক্ত করার উপায়

কেন ঘুমের মধ্যে চেপে ধরে নিশি ভূত!

রেশন কার্ড আর ৭ ঐতিহাসিক আইকনিক বিয়ের পোশাকের গল্প

দুই বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে কোন ধরনের আচরণ করবেন ও করবেন না

সারা দিন ত্বক মসৃণ ও কোমল রাখবেন যেভাবে

বিউটি বার্ন আউট; রূপচর্চা করাই যখন চাপের হয়ে ওঠে

চিয়া সিডের পর এবার ঈষদুষ্ণ পানিতে ঘি মিশিয়ে পান করছেন অনেকে, কী উপকার তাতে জেনে নিন