ব্যস্ত জীবন আর নানা দায়িত্বের মধ্যে আমরা প্রায়ই নিজেদের কথা ভুলে যাই। কিন্তু শরীরের মতো মনের যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। নিজের যত্ন নিলে একদিকে যেমন মানসিক প্রশান্তি বাড়ে, তেমনি শারীরিক শক্তিও বৃদ্ধি পায়। খাদ্য-পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ আলমগীর আলম বলেন, ‘মানসিক রোগকে শারীরিক রোগের মতোই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এটি দুর্বলতা নয়। প্রত্যেকের সমস্যা ও সমাধান ভিন্ন। তাই চিকিৎসা ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত।’
জীবনের অন্য কাজগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম যোগ করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি আপনার মেজাজ উন্নত করতে জাদুকরী ভূমিকা রাখবে। আর অবশ্যই সুষম খাবার ও সঠিক পরিমাণ মেনে পানি পান করতে হবে। ভালো থাকতে চাইলে নিয়ম করে পুষ্টিকর খাবার খান। অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা কফি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কারণ এটি অনেকের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অনেকে কাজের মধ্যে কফি খেয়ে ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে চান। তবে পরিমাণের বেশি কফি পান করলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। সবকিছুর মধ্যে ঘুমকে গুরুত্ব দিন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে ফোন বা ল্যাপটপের ‘ব্লু লাইট’ এড়িয়ে চলুন। এতে দ্রুত গভীর ঘুম আসবে।
লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। কারণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া জীবনের কোনো মানে নেই। লক্ষ্য নির্ধারিত থাকলে পথচলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। কাজের সময় প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা করবেন না। কোনটি আগে করা জরুরি, তা ঠিক করুন। অতিরিক্ত চাপের কাজে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলতে শিখুন। বর্তমান সময়ে আমরা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই কম। একাকী না থেকে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। মনের কথা শেয়ার করলে মানসিক বোঝা হালকা হয়।
খাদ্য-পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ আলমগীর আলম বলেন, ‘মানসিক রোগের ধরন অনেক এবং প্রতিটির চিকিৎসা ও প্রতিরক্ষার পদ্ধতি ভিন্ন। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সুস্থ জীবনযাপন এবং সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’ কিছু লক্ষণ টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হলে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। ছোট ছোট এ পদক্ষেপ আপনার জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সূত্র: বিবিসি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ