জেনে নিই ভালো থাকি
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। এদিন বাড়িতে গরু বা খাসির মাংসের বাহারি রান্নার ধুম পড়ে যায়। তবে মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মানুষের শরীরের বৈশিষ্ট্য আলাদা; খাবারের চাহিদাও। এর ওপর আছে রোগ। একেক ধরনের রোগে একেক পরিমাণ মাংস খাওয়ার বিধান দেওয়া হয়। চলুন, দেখে নিই কোন রোগে কতটুকু মাংস খেতে পারবেন এই ঈদে।
লাল মাংসে সোডিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। তাই এ ধরনের রোগীদের গরু ও খাসির মাংস যদি এক বেলা খেতেই হয়, তাহলে সেটা কম লবণ দিয়ে রান্না করে ঝোল ছাড়া খেতে হবে। মাংস দিয়ে তৈরি অন্যান্য খাবার সীমিত পরিমাণে খেতে হবে।
হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য গরু ও খাসির মাংস না খাওয়াই ভালো। তবে গরু বা খাসির মাংসের গায়ে লেগে থাকা সাদা চর্বি বাদ দিয়ে রান্না করে ঝোল ছাড়া পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যাবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত আঁশ ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
কারও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে কিংবা রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলেও
গরু-খাসির মাংস না খাওয়াই ভালো। খেলেও অল্প পরিমাণে চর্বি ছাড়া মাংস রান্না করে ঝোল ছাড়া খেতে হবে। এতে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল বাড়ার ঝুঁকি খুব কম থাকবে।
প্রতি এক গ্রাম চর্বিতে প্রায় ৯ কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। এতে সুগার লেভেল বেড়ে যায়। গরু-খাসির মাংসে চর্বি অনেক বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের গরু-খাসির মাংস পরিমিত খেতে হবে।
যাঁদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি, তাঁরা গরুর মাংস খাবেন না। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে কলিজা, মগজ, ভুঁড়ি, পায়া—এগুলোও খাওয়া যাবে না। তবে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে থাকলে পরিমিত পরিমাণে গরু কিংবা খাসির মাংস খাওয়া যাবে।
হার্টের রোগী বা যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি কিংবা যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে অথবা যাঁদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে, তাঁরা উৎসবের এক দিন লাল মাংস খেতে চাইলে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। সেগুলো হলো—
মো. ইকবাল হোসেন, সিনিয়র পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম