হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

কম বয়সে চুল পাকা ও চুল পড়ার সমস্যা কেবল জিনগত নয়

ফিচার ডেস্ক

অসময়ে চুল পাকার পেছনে সাধারণত ছয়টি বিশেষ জিনের কারসাজি থাকে। এগুলো মূলত চুলের হরমোন নিয়ন্ত্রণ, কোষ পুনর্গঠন, ভিটামিন ডি সংকেত এবং আয়রন ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করে। ছবি: পেক্সেলস

বয়স মাত্র ২০ বা ৩০-এর কোঠায়। অথচ আয়নায় তাকালেই নজরে পড়ছে দু-একটি রুপালি চুল। বন্ধুদের চুল যখন ঘন ও কালো, তখন আপনার মাথায় অসময়ে পাকা চুল বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়াটা দুশ্চিন্তার কারণ হওয়াই স্বাভাবিক। রূপচর্চার জগতে আজকাল ঘরোয়া টোটকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্টের ছড়াছড়ি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অসময়ে চুল পাকা বা চুল পড়ার পেছনে জিন বা বংশগতির ভূমিকা ঠিক কতটা? নাকি আমরা ভুল জায়গায় সমাধান খুঁজছি? অকালে চুল পাকা ও চুল পাতলা হওয়ার পেছনে আমাদের জিন, জীবনযাত্রা এবং জৈবিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন কারণ থাকে।

অসময়ে চুল পাকার পেছনে জিনের ভূমিকা

চুল পাকা বা সাদা হওয়া একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলের ফোলিকলে থাকা মেলানিন (যা চুলকে কালো রং দেয়) তৈরি করার কোষগুলোর সক্রিয়তা কমতে থাকে। তবে ২০ বা ৩০ বছর বয়সে চুল পাকার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে বংশগত বা জিনগত বৈশিষ্ট্য। ডার্মাটোলজির ভাষায়, অসময়ে চুল পাকার পেছনে সাধারণত ছয়টি বিশেষ জিনের কারসাজি থাকে। এগুলো মূলত চুলের হরমোন নিয়ন্ত্রণ, কোষ পুনর্গঠন, ভিটামিন ডি সংকেত এবং আয়রন ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করে।

- এআর এবং এসআরডি৫এ২ জিনগুলো ডিএইচটি হরমোনের প্রতি চুলের ফোলিকলের সংবেদনশীলতা বাড়ায়। এর ফলে স্বাভাবিক হরমোন মাত্রাতেও চুলের ফোলিকল সংকুচিত হয়ে যায় এবং দ্রুত চুল পাকার পাশাপাশি চুল পড়া শুরু হয়।

- ইএসআর১ জিন ইস্ট্রোজেন হরমোনের সংকেত গ্রহণ করে চুলকে সুরক্ষার ছাতা জোগায়। এই জিনের কার্যকারিতা কমে গেলে চুলের বৃদ্ধি থমকে যায়।

- এমটিএইচএফআর জিন চুলের কোষ পুনর্গঠনে ফোলিক অ্যাসিড বা ফোলেটের ব্যবহার নিশ্চিত করে। এর ঘাটতি হলে চুলের কোষগুলোর পুনর্জন্ম ব্যাহত হয়।

- ভিডিআর জিন এটি ভিটামিন ডি গ্রহণে সাহায্য করে চুলকে সতেজ রাখে।

- এইচআফই জিন শরীরে আয়রনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা চুলের স্বাস্থ্য ও অক্সিজেনের প্রবাহের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তবে পরিবারে কারও অকালে চুল পাকার ইতিহাস থাকলেই যে আপনার ক্ষেত্রেও ঠিক একই বয়সে তা ঘটবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

শুধু জিনই একমাত্র কারণ নয়

পারিবারিক ইতিহাস একটি বড় কারণ হলেও সব দোষ জিনের ওপর চাপিয়ে দিলে ভুল হবে। শরীর ও জীবনযাত্রার আরও নানা কারণ আপনার চুলের এই অসময় পরিবর্তনের জন্য দায়ী হতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি: শরীরে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, আয়রন বা জিঙ্কের অভাব হলে চুল দ্রুত রং হারাতে পারে।

শারীরিক সমস্যা: থাইরয়েডের সমস্যা, অটোইমিউন ডিজিজ (যেমন: অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা) বা হঠাৎ কোনো বড় অসুস্থতা চুল পড়ার অন্যতম কারণ।

মানসিক চাপ ও ধূমপান: অতিরিক্ত মানসিক চাপ চুলের ফোলিকলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়, যা চুল দ্রুত পাকিয়ে দেয়। এ ছাড়া ধূমপান রক্তনালি সংকুচিত করে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছাতে বাধা দেয়।

শরীর ও জীবনযাত্রার আরও নানা কারণ আপনার চুলের অসময় পরিবর্তনের জন্য দায়ী হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

চুল পাতলা হওয়া বা টাক পড়া

বংশগত কারণে চুল পাতলা হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া’ বা প্যাটার্ন বল্ডনেস বলা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে (সামনের দিকে বা তালুতে) টাক তৈরি করে, আর নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত পুরো মাথার চুল পাতলা হয়ে যেতে দেখা যায়।

প্রতিকার ও সঠিক যত্ন

অনেকে জেনেটিক সমস্যা সমাধান করতে নানা ধরনের বায়োটিন বা কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শুরু করেন, যা অনেক সময়ই কাজ করে না। কারণ, সমস্যা যদি আপনার জিনের সংবেদনশীলতায় থাকে, তবে সাধারণ ভিটামিন তা ঠিক করতে পারে না। হঠাৎ চুল পড়া বা পাকার হার বেড়ে গেলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে একজন বিশেষজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্যাটার্ন হেয়ার লসের জন্য মিনোক্সিডিল বা ডিএইচটি ব্লকার বেশ কার্যকারী। এ ছাড়া চরম ক্ষেত্রে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করা যেতে পারে, যদিও এটি বংশগত প্রবণতাকে মুছে ফেলে না, তবে হারানো চুল ফিরিয়ে আনে। ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে চুল পাকার গতি ধীর করা সম্ভব। এ ছাড়া সাময়িকভাবে চুল ঢাকতে মানসম্মত ডাই বা হেয়ার কালার ব্যবহার করা যেতে পারে। জিনের প্রভাবে চুল পাকা বা পাতলা হওয়াকে শতভাগ থামানো না গেলেও, সঠিক সময়ে সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করে একটি সঠিক লাইফস্টাইল ও চিকিৎসা পরিকল্পনা গ্রহণ করলে চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব।

সূত্র: হেলথ শর্টস, সেলফ ডিকোড

টাইপ বি ব্যক্তিত্ব: কম চাপ, স্বস্তির জীবন নাকি অলসতার তকমা

আজকের রাশিফল: প্রশংসা পাওয়ার চেয়ে পিঠ বাঁচিয়ে চলা আজ জরুরি

জানুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতায় কারা সবচেয়ে স্বাধীন

ইনস্ট্যান্ট নুডলস খাওয়ার তালিকায় কোন দেশ এগিয়ে

নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয়

বিবলিওথেরাপি যেভাবে বদলাতে পারে জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি

ইউটিউব সবচেয়ে বেশি দেখে কোন দেশের মানুষ

জেনে নিন বিশ্বের সবচেয়ে সুস্থ হৃৎপিণ্ডের দেশের নাম

আজকের রাশিফল: প্রেমে অতিরিক্ত উদ্দীপনা সন্দেহ বাড়াবে, কাঠি করবে হিংসুটে সহকর্মী

জেনে নিন, আসছে শীতে শরীর ও মনকে চাঙ্গা রাখার উপায়