বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) লিখিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২৫ এপ্রিল। শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, এ পরীক্ষায় সফলতা নির্ভর করে সঠিক কৌশল, সময় ব্যবস্থাপনা ও মানসিক স্থিরতার ওপর। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করতে ১৭তম বিজেএসে সিভিল জজ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত রাকিবুল হাসান আনন্দ শেয়ার করেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ। লিখেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।
গুছিয়ে লিখুন
অনেকে মনে করেন, বেশি লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। এ ধারণা পুরোপুরি ভুল। পরীক্ষক আপনার খাতার পৃষ্ঠা নয়, বরং উপস্থাপনা, যুক্তি ও স্পষ্টতা মূল্যায়ন করবেন। তাই অপ্রয়োজনীয় লেখা বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিখুঁতভাবে উত্তর দিন।
ফাঁকা না রেখে উত্তর করুন
ব্যাকরণ বা সাহিত্য অংশে অনেক সময় পুরোপুরি কমন নাও আসতে পারে। কিন্তু কাছাকাছি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা এবং আপনার প্রচেষ্টা—দুটিই পরীক্ষকের কাছে মূল্যবান। তাই কোনো অংশ ফাঁকা না রেখে চেষ্টা করুন।
গণিত ও বিজ্ঞানে কৌশলী হোন
গণিত ও বিজ্ঞান অংশে উত্তর করার আগে বিজ্ঞানের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে নিন। কোন
১০টি প্রশ্নের উত্তর দেবেন, তা আগে নির্ধারণ করুন। গণিত দিয়ে শুরু করুন। কোনো অঙ্ক একবারে না মিললে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করুন, কিন্তু তৃতীয়বার নয়, সময় নষ্ট না করে পরেরটিতে
চলে যান। পরীক্ষার শুরুতেই বিজ্ঞানের উত্তরগুলো গুছিয়ে নিন। এতে দেখা যায়, অঙ্ক করতে গিয়ে চাপ মনে হলেও বিজ্ঞান সহজে সম্পন্ন করা যায়।
চিত্র ব্যবহার করুন
যেসব প্রশ্নে চিত্র আঁকার সুযোগ আছে, সেগুলোতে চিত্র ব্যবহার করুন। যেমন RNA বা মানব হৃৎপিণ্ড। এতে খাতা আলাদা হয়ে ওঠে এবং পরীক্ষকের নজর কাড়ে। এ অংশে অনেকে চিত্র এড়িয়ে যান। কিন্তু সুযোগ থাকলে মানচিত্র বা ডায়াগ্রাম ব্যবহার করতে পারেন; যেমন ফিলিস্তিনের মানচিত্র।
সময় নির্ধারণ করে লিখুন
রচনা, ভাবসম্প্রসারণ, চিঠি বা প্রতিবেদনে আগে থেকে সময় নির্ধারণ করুন। যেমন রচনা ৪০ মিনিট, ভাবসম্প্রসারণ ২০ মিনিট। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করবেন না। আইন অংশে ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ৩২ মিনিট বরাদ্দ রাখুন (মোট ১৬০ মিনিট)। অতিরিক্ত ২০ মিনিট রাখুন প্রশ্ন বাছাই ও পরিকল্পনার জন্য। পরীক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় ব্যবস্থাপনা। সময় যত ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
প্রশ্ন বাছাই ও লেখার উপস্থাপন
প্রশ্ন হাতে পেয়ে লেখা শুরু করা বড় ভুল। প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নিয়ে পুরো প্রশ্নপত্র পড়ুন এবং যেগুলো ভালো পারেন, সেগুলো নির্বাচন করুন। তারপর লেখা শুরু করুন। ইনহেরিটেন্স প্রশ্ন কমন পড়লে শুরুতে সমাধান করুন। কারণ তখন মাথা থাকে ঠান্ডা। তবে প্রশ্ন কঠিন বা অপরিচিত মনে হলে তার সমাধান শেষে করার পরিকল্পনা নিন। নীল কালি ব্যবহার করতে পারেন, তবে অতিরিক্ত নয়। গুরুত্বপূর্ণ অংশ আন্ডারলাইন করুন। খাতা পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখুন। অতিরিক্ত রং বা সাজসজ্জা এড়িয়ে চলুন।
কেস রেফারেন্স দিলে ভালো, কিন্তু না দিলেও বড় ক্ষতি নেই। শুধু রেফারেন্সের ওপর নির্ভর না করে উত্তর শক্তিশালী করুন। পরীক্ষা শেষে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখলে মানসিক চাপ বাড়ে এবং পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এড়িয়ে চলাই ভালো।