বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বেশির ভাগ তরুণ করপোরেট জগতে পা রাখেন। এ পর্যায়ে অনেকে মনে করেন, ভালো ফল বা ডিগ্রিই ভালো চাকরি পাওয়ার প্রধান চাবিকাঠি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমান করপোরেট খাত শুধু সনদে থেমে নেই। এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় মানুষের শেখার ক্ষমতা, মানসিক প্রস্তুতি, কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনার ওপর। করপোরেট জগতে টিকে থাকতে হলে তরুণদের জানতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তেমন কিছু বিষয়ে:
শেখার মানসিকতা ও নিজেকে আপডেট রাখার সক্ষমতা
নিয়োগের আগে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, তা হলো শেখার আগ্রহ ও পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা। প্রযুক্তি, ব্যবসার মডেল এবং কাজের ধরন প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আজ যে দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ, খুব দ্রুত তা পুরোনো হয়ে যেতে পারে। তাই ফ্রেশারদের মধ্যে নতুন জ্ঞান গ্রহণের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণকে সুযোগ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে। নিজেকে নিয়মিত আপডেট রাখার অভ্যাস থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। যাঁরা শেখাকে বোঝা নয়; বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন, প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের ওপর বেশি আস্থা রাখে।
নতুন ভাবনা ও ইনোভেটিভ চিন্তার গুরুত্ব
করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর শুধু নির্দেশনা মেনে কাজ করা কর্মী খোঁজে না। তারা চায় এমন কর্মী, যাঁরা সমস্যা দেখলে সমাধান খুঁজতে পারেন, নতুন আইডিয়া দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে প্রচলিত চিন্তার বাইরে ভাবতে পারেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল এ বিশ্বে টিকে থাকতে হলে সৃজনশীলতা ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। তাই প্রশ্ন করা, বিশ্লেষণ করা এবং ভিন্নভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা একজন ফ্রেশারের বড় শক্তি।
পরিশ্রম, ধৈর্য ও বাস্তবতা বোঝার মানসিকতা
ক্যারিয়ার গড়া কোনো শর্টকাটের বিষয় নয়। শুরুতে কাজের দায়িত্ব তুলনামূলক কম হলেও শেখার সুযোগ থাকে বেশি। অনেক সময় কাজের চাপ, সময়ের সীমাবদ্ধতা কিংবা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করতে পারেন এবং ধৈর্য ধরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তাঁরাই দীর্ঘ মেয়াদে সফল হন। করপোরেট দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য বাস্তবতা বোঝা এবং ধাপে ধাপে এগোনোর মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পারপাস-ড্রিভেন কাজের প্রতি তরুণদের আগ্রহ
বর্তমান প্রজন্ম শুধু একটি চাকরি নয়, বরং পারপাস-ড্রিভেন কাজ করতে চায়। তারা জানতে চায়, প্রতিষ্ঠানটি সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে তাদের অবস্থান কী। অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও সামাজিক অবদান—এসব বিষয় এখন তরুণদের ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে তাদের মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়গুলো সামনে আনছে।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
এআই, ডেটা অ্যানালাইটিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তি এখন প্রায় সব খাতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা ফ্রেশাররা প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে জানার আগ্রহ দেখাবেন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত নিজেদের দক্ষ করে তুলবেন। প্রযুক্তিগত দক্ষতা শুধু কাজের গতি বাড়ায় না; বরং একজন কর্মীকে ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত করে।
সব মিলিয়ে, বর্তমানে করপোরেট জগৎ এমন তরুণদের খোঁজে, যাঁরা শেখার জন্য প্রস্তুত, নতুন চিন্তায় বিশ্বাসী, পরিশ্রমী এবং একটি অর্থবহ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। ডিগ্রি একজন ফ্রেশারকে দরজার সামনে পৌঁছে দেয়; কিন্তু সে দরজা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক মানসিকতা ও দক্ষতা। যাঁরা এ প্রস্তুতি নিয়ে করপোরেট দুনিয়ায় পা রাখবেন, তাঁদের জন্য ক্যারিয়ারের পথ নিঃসন্দেহে আরও প্রশস্ত ও সম্ভাবনাময় হবে।