হোম > ইসলাম

কুব্বাতুস সাখরা: মুসলিম স্থাপত্যের অমর নিদর্শন

জাহিদ রহমান

সভ্যতার প্রাচীন শহর বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জেরুজালেমের নাম। আর জেরুজালেমের কথা উঠলে হৃদয় জুড়িয়ে যায় আকাশছোঁয়া এক সোনালি গম্বুজের ছটায়। এই অনন্য স্থাপত্যের নাম ‘কুব্বাতুস সাখরা’ বা পাথরের গম্বুজ, যা বিশ্বজুড়ে ‘ডোম অব দ্য রক’ নামে পরিচিত। এটি ইসলামি স্থাপত্যকলার আদি ও অপূর্ব এক নিদর্শন।

স্থাপত্যের নতুন দিগন্ত

ইসলামের প্রথম দশকে স্থাপত্য ছিল অত্যন্ত সাধারণ; মাটির বেড়া আর খেজুরগাছের ছাউনি। তবে উমাইয়া খিলাফতের হাত ধরে যখন ইসলামি সাম্রাজ্য মেসোপটেমিয়া থেকে পারস্য ও উত্তর আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ল, তখন রোমান, পারস্য ও বাইজেন্টাইন স্থাপত্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি হলো। সেই ঐতিহাসিক বিপ্লবের প্রথম সফল চিত্র এই ডোম অব দ্য রক।

উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান ৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণকাজ শুরু করেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দ্বিতীয় ফিতনার কারণে নির্মাণ শেষ হতে সাত বছর সময় লাগে। অবশেষে ৬৯১ খ্রিষ্টাব্দের ২১ এপ্রিল (১৫ রমজান, ৭২ হিজরি) এর উদ্বোধন করা হয়। তৎকালীন মক্কায় রাজনৈতিক বিদ্রোহ চলায় উমাইয়া খলিফারা জেরুজালেমকে এক বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

অপূর্ব গঠনশৈলী ও কারুকাজ

৩৬ একর জমিতে নির্মিত এই স্থাপনার কেন্দ্রীয় গম্বুজটির ব্যাস ২০.২ মিটার এবং উচ্চতা ৩৫.৫ মিটার। ১৬টি স্তম্ভ ও ৪০টি পিয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই অক্টাগোনাল (অষ্টভুজাকৃতি) কাঠামোটি মূলত বাইজেন্টাইন কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি। বাহ্যিক দেয়ালগুলো ৩০ মিটার উঁচু এবং পুরো কাঠামোর ওজন প্রায় ৩৩ হাজার টন।

এর অভ্যন্তরীণ সজ্জা যেন এক জান্নাতি আবহ তৈরি করে। ১ লাখ ২০ হাজার বর্গফুটজুড়ে বিস্তৃত মোজাইক টাইলসে কোনো মানুষ বা প্রাণীর ছবি নেই, যা ইসলামি শিল্পরীতির এক অনন্য প্রতিফলন। এর বদলে ফুল, লতাপাতা ও কোরআনের আয়াত খোদাই করে এক অপার্থিব সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

সংঘাত ও সংস্কারের ইতিহাস

১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা একে গির্জায় রূপান্তর করলেও ১১৮৭ সালে বীর সিপাহসালার সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এটি পুনরুদ্ধার করেন। পরবর্তীকালে আব্বাসীয়, ফাতেমীয়, মামলুক ও উসমানীয় শাসকেরা এর পুনর্নির্মাণ ও শ্রীবর্ধনে কাজ করেন। বর্তমানে এটি জর্ডানের ইসলামিক ওয়াক্ফ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৯৩ সালে এর গম্বুজে নতুন করে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়, যা আজও দূর থেকে দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।

স্থাপত্যের এক বৈপ্লবিক প্রেরণা

ডোম অব দ্য রককে বলা যায় স্থাপত্যবিদ্যার এক বিপ্লব। এর ‘স্কুইচ আর্চ’ ও ‘পেনডেনটিভ সিস্টেম’ পরবর্তীকালে তুরস্কের আয়া সোফিয়া বা সেলিমিয়া মসজিদের মতো বিশ্বখ্যাত স্থাপত্যকে প্রভাবিত করেছে। এমনকি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদেও এর প্রভাব লক্ষ করা যায়। এর অষ্টভুজাকৃতি পরিকল্পনা মূলত জীবনচক্রের আটটি দিকের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও ডোম অব দ্য রক আজও শান্তির প্রতীক হিসেবে অটল দাঁড়িয়ে। এর সোনালি গম্বুজের নিচে দাঁড়ালে মনে হয় যেন স্বর্গীয় এক প্রশান্তি নেমে আসছে। এটি ইসলামের বিজয়, সৃজনশীলতা ও চিরন্তন আলোর এক অক্ষয় স্মারক, যা হাজার বছর ধরে আমাদের ঐক্য ও শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

রমজানের শেষ দশকে যে আমল করতেন নবীজি (সা.)

বদর যুদ্ধ যেভাবে ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল

ইতিকাফে বসার আগে যেসব বিষয় জানতে হবে

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ মার্চ ২০২৬

ঘুমের আগে ৪ ‘কুল’ পাঠ করলে যে ফজিলত

হুসাইন আহমাদ মাদানি: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রসেনানী

নবীজির ভালোবাসায় ইহুদি বালকের ইসলাম গ্রহণ

ইনসুলিন বা ইনজেকশন নিলে কি রোজা ভেঙে যায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৫ মার্চ ২০২৬

অন্যকে ক্ষমা করলে আল্লাহ যে প্রতিদান দেবেন