হোম > ইসলাম

নবীজি (সা.)-এর পরিবার ও আদম (আ.) পর্যন্ত বংশধারা

ইসলাম ডেস্ক 

ছবি: সংগৃহীত

মানবজাতির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হলেন আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। তিনি এমন এক পরিবার ও বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যা ছিল তৎকালীন সমগ্র আরবের মধ্যে সবচেয়ে অভিজাত, সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ। সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক অভিমত অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার প্রত্যুষে মক্কার পবিত্র ভূমিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘মুহাম্মদ তোমাদের মধ্য থেকে কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং সে হচ্ছে আল্লাহর রাসুল ও সর্বশেষ নবী।’ (সুরা আহজাব: ৪০)

পবিত্রতা ও আভিজাত্যে অনন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সংক্ষিপ্ত পারিবারিক পরিচিতি, তাঁর পবিত্র পত্নীগণ, সন্তানাদি এবং আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত তাঁর সুদীর্ঘ বংশলতিকা নিচে তুলে ধরা হলো।

একনজরে সংক্ষিপ্ত পারিবারিক পরিচিতি

  • পবিত্র নাম: মুহাম্মদ (সা.)।
  • উপনাম (কুনিয়াত): আবুল কাসেম (জ্যেষ্ঠ পুত্র কাসেমের নামানুসারে)।
  • পিতা: আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব (তিনি ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের ১০ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ)।
  • মাতা: আমেনা বিনতে ওয়াহ্হাব।
  • দাদা ও দাদি: আবদুল মুত্তালিব বিন হাশেম ও ফাতেমা বিনতে আমর।
  • নানা ও নানি: ওয়াহ্হাব বিন আবদে মানাফ ও বোররা বিনতে উমজা।
  • গোত্র ও বংশ: কোরাইশ গোত্রের ‘হাশেমি’ বংশ।

আজওয়াজে মুতাহহারাত তথা পবিত্র নবীপত্নীগণ

নবুয়তের প্রথম জীবনে দীর্ঘ ২৫ বছর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একমাত্র স্ত্রী ছিলেন হজরত খাদিজা (রা.)। তাঁর ইন্তেকালের পর ইসলামের প্রচার, রাজনৈতিক সংহতি, যুদ্ধবিধ্বস্ত নারীদের পুনর্বাসন এবং ধর্মীয় বিধান (শরিয়া) বাস্তবায়নের মতো নানাবিধ মহান ও মানবিক উদ্দেশ্যে তিনি একাধিক বিবাহ করেন। রাসুল (সা.)-এর পবিত্র পত্নীগণের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

  • ১. হজরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.): মক্কার বিদূষী, ধনী ও ‘তাহেরা’ (পবিত্র) উপাধিপ্রাপ্ত নারী। তিনি নবীজি (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী এবং নবুয়তের কঠিন দিনগুলোর পরম আশ্রয়।
  • ২. হজরত সাওদা বিনতে জামআ (রা.): প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লে নবীজি (সা.) তাঁকে বিয়ে করে সম্মানিত করেন।
  • ৩. হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.): হজরত আবু বকর (রা.)-এর কন্যা। নবীপত্নীদের মধ্যে তিনিই একমাত্র কুমারী ছিলেন। তাঁর প্রখর মেধার কারণে ইসলামের বহু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও বিধান তাঁর মাধ্যমে উম্মত জানতে পেরেছে।
  • ৪. হজরত হাফসা (রা.): হজরত ওমর (রা.)-এর কন্যা। তাঁর প্রথম স্বামী যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর নবীজি (সা.) তাঁকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।
  • ৫. হজরত জয়নাব বিনতে খুজাইমা (রা.): দানশীলতার জন্য মদিনায় তিনি ‘উম্মুল মাসাকিন’ বা নিঃস্বদের জননী নামে পরিচিত ছিলেন। বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
  • ৬. হজরত উম্মে সালামা (রা.): উহুদ যুদ্ধে তাঁর স্বামী আবু সালামা শহীদ হওয়ার পর নবীজি (সা.) এই অসহায় বিদূষী নারীকে আশ্রয় দেন। তিনি নবীপত্নীদের মধ্যে সবার শেষে মৃত্যুবরণ করেন।
  • ৭. হজরত জয়নাব বিনতে জাহশ (রা.): তিনি ছিলেন নবীজি (সা.)-এর ফুফাতো বোন। পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ের সামাজিক কুসংস্কার ভাঙতে আল্লাহর সরাসরি নির্দেশে (সুরা আহজাবের আয়াত অনুযায়ী) এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
  • ৮. হজরত জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ (রা.): এক আরব গোত্রপতির কন্যা। তিনি যুদ্ধবন্দী হিসেবে আসার পর নবীজি (সা.) তাঁকে বিয়ে করেন। এই বিয়ের সম্মানে সাহাবিরা ওই গোত্রের সব যুদ্ধবন্দীকে মুক্ত করে দেন।
  • ৯. হজরত উম্মে হাবিবা (রা.): আবু সুফিয়ানের কন্যা। হাবশায় হিজরতের পর তাঁর স্বামী খ্রিষ্টান হয়ে মারা গেলে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় পড়েন। পরে বাদশাহ নাজ্জাশির মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়।
  • ১০. হজরত সাফিয়া বিনতে হুয়াই (রা.): তিনি ছিলেন হজরত হারুন (আ.)-এর অধস্তন বংশধর। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
  • ১১. হজরত মায়মুনা বিনতে হারিছ (রা.): প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সন্তানাদি

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মোট সন্তান ছিলেন সাতজন। কনিষ্ঠ পুত্র ইবরাহিম (যিনি মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভজাত ছিলেন) ছাড়া অন্য সব সন্তানই হজরত খাদিজা (রা.)-এর গর্ভে জন্ম নেন।

পুত্রসন্তান (৩ জন)

  • ১. কাসেম
  • ২. তাহের (আবদুল্লাহ)
  • ৩. ইবরাহিম। (তাঁরা সবাই শৈশবেই ইন্তেকাল করেন)

কন্যাসন্তান (৪ জন)

  • ৪. হজরত ফাতিমা
  • ৫. হজরত জয়নাব
  • ৬. হজরত রোকাইয়া
  • ৭. হজরত উম্মে কুলসুম (রা.)

আদি পিতা আদম (আ.) পর্যন্ত সুদীর্ঘ বংশধারা (৮১টি স্তর)

ইতিহাসবিদদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী, আদনান (২২তম স্তর) পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশলতিকা সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সংরক্ষিত। এর ঊর্ধ্বের ধারাটি হজরত ইসমাইল (আ.) ও হজরত ইবরাহিম (আ.) হয়ে মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ ‘আর-রাহিকুল মাখতুম’ ও ‘জাদুল মাআদ’-এর সূত্র ধরে সেই ধারাবাহিক তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:

প্রথম অংশ: মুহাম্মদ (সা.) থেকে আদনান (ঐতিহাসিকদের সর্বসম্মত অংশ)

  • ১. হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)
  • ২. আবদুল্লাহ
  • ৩. আবদুল মুত্তালিব
  • ৪. হাশেম
  • ৫. আবদে মানাফ
  • ৬. কুসাই
  • ৭. কিলাব
  • ৮. মুররাহ
  • ৯. কাব
  • ১০. লুওয়াই
  • ১১. গালিব
  • ১২. ফিহর (যিনি ‘কুরাইশ’ নামে পরিচিত)
  • ১৩. মালেক
  • ১৪. নজর
  • ১৫. কিনানাহ
  • ১৬. খুজাইমা
  • ১৭. মুদরিকাহ
  • ১৮. ইলিয়াস
  • ১৯. মুজার
  • ২০. নিজার
  • ২১. মাআদ
  • ২২. আদনান

দ্বিতীয় অংশ: আদনান থেকে হজরত ইসমাইল (আ.)

  • ২৩. আওয়াদ
  • ২৪. হুমাইসা
  • ২৫. সালামান
  • ২৬. আওজ
  • ২৭. বুজ
  • ২৮. কামওয়াল
  • ২৯. উবাই
  • ৩০. আওয়ান
  • ৩১. নাসিদ
  • ৩২. হিজা
  • ৩৩. বালদাস
  • ৩৪. ইয়াদলাফ
  • ৩৫. তাবিখ
  • ৩৬. জাহিম
  • ৩৭. নাহিস
  • ৩৮. মাখি
  • ৩৯. আয়েফ
  • ৪০. আবকার
  • ৪১. উবাইদ
  • ৪২. আদ-দাহা
  • ৪৩. হামদান
  • ৪৪. সানবার
  • ৪৫. ইয়াসরিবি
  • ৪৬. ইয়াহজিন
  • ৪৭. ইয়ালহান
  • ৪৮. ইরাওয়া
  • ৪৯. আইজি
  • ৫০. জিশান
  • ৫১. আইছার
  • ৫২. আফনাদ
  • ৫৩. আইহাম
  • ৫৪. মুকাসির
  • ৫৫. নাহিস
  • ৫৬. জারিহ
  • ৫৭. সামি
  • ৫৮. মাজ্জি
  • ৫৯. ইওয়াদ
  • ৬০. ইরাম
  • ৬১. হিদার
  • ৬২. হজরত ইসমাইল (আ.)

তৃতীয় অংশ: হজরত ইসমাইল (আ.) থেকে আদি পিতা আদম (আ.)

  • ৬৩. হজরত ইবরাহিম (আ.)
  • ৬৪. তারক
  • ৬৫. নাহুর
  • ৬৬. সারুজ
  • ৬৭. রাআউ
  • ৬৮. ফাহিজ
  • ৬৯. আবির
  • ৭০. আফরাহশাদ
  • ৭১. সাম
  • ৭২. হজরত নুহ (আ.)
  • ৭৩. লামিক
  • ৭৪. মাতু সালিখ
  • ৭৫. হজরত ঈদরিস (আ.)
  • ৭৬. ইয়ারিদ
  • ৭৭. মালহালিল
  • ৭৮. কিনান
  • ৭৯. আনস
  • ৮০. হজরত শিস (আ.)
  • ৮১. হজরত আদম (আ.) (মানবজাতির আদি পিতা)।

ইতিহাসে আর কোনো মহামানব বা নবীর এমন নিখুঁত ও সংরক্ষিত বংশলতিকা খুঁজে পাওয়া যায় না। আদি পিতা আদম (আ.) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ ধারাটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বশেষ বাণীবাহককে পৃথিবীর বুকে পাঠানোর জন্য কত চমৎকার ও মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ধারা নির্বাচন করেছিলেন।

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৫ জুন ২০২৬

মায়ের মর্যাদা ও সন্তানের দায়িত্ব

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইসলামের নির্দেশনা

চামড়ার কারুশিল্পে বেলুচি মুসলমানদের মুনশিয়ানা

দাড়ি কীভাবে রাখলে সুন্নত পালন হবে

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর করণীয় ৫ আমল

হজ থেকে ফিরে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার উপায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৩ জুন ২০২৬

ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়েছিল যেভাবে

সুরা ফাজর অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ