সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস আগামী ১৯ তারিখ শুরু হতে পারে। শারজাহ অ্যাকাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (এসএএএসএসটি) রমজান মাসের চাঁদ দেখার বিষয়ে এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানা যায়। সাধারণত চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই পরের দিন থেকে হিজরি ক্যালেন্ডারের নতুন মাস শুরু হয়।
গবেষক দল জানিয়েছেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১ মিনিটে চাঁদ সূর্যের সঙ্গে তাঁর কক্ষপথের সংযোগস্থলে পৌঁছাবে এবং নতুন চাঁদের জন্ম হবে। শারজাহর ক্ষেত্রে এই সংযোগ ঘটবে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে।
সেদিন সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট। সূর্যালোক পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগেই চাঁদ দিগন্তে অস্ত যাবে। সূর্য এবং চাঁদ প্রায় একই সময়ে অস্ত যাওয়ার কারণে ওইদিন সন্ধ্যায় খালি চোখে বা আধুনিক কোনো টেলিস্কোপের সাহায্যেই রমজানের চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, কেবল শারজাহ বা আরব আমিরাতে নয়, বরং বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশেই ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা যাবে না।
তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী চাঁদের বয়স ২৬ ঘণ্টা অতিক্রম করবে এবং দিগন্ত থেকে এর উচ্চতা হবে প্রায় ১২ ডিগ্রি ২১ আর্ক-মিনিট। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওইদিন খালি চোখে স্পষ্টভাবে চাঁদ দেখা যাওয়ার মতো আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
শারজাহর ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, সে সময় চাঁদের বয়স হবে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ২৩ মিনিট এবং উচ্চতা হবে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি।
একাডেমির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেসব দেশ চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে, সেখানে সম্ভবত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। তবে কিছু দেশ যারা চাঁদ দেখা অপেক্ষা না করে কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যকে গুরুত্ব দেয়, তারা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রোজা শুরু করতে পারে।
সূত্র: খালিজ টাইমস