হোম > ইসলাম

সুরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও আমল করার বিশেষ ফজিলত

হাদিস অনুযায়ী, সুরা ইখলাস একবার পাঠ করা পুরো কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ (১০ পারা) পাঠ করার সমান সওয়াব বহন করে।

ইসলাম ডেস্ক 

সুরা ইখলাস। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা হলো সুরা ইখলাস। এটি মক্কায় অবতীর্ণ একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ সুরা। এই সুরায় মহান আল্লাহর একত্ববাদের (তাওহিদ) ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার কারণে একে ইসলামের নির্যাস বলা হয়।

সুরা ইখলাস আরবি ও বাংলা উচ্চারণ

নিচে সুরা ইখলাসের আরবির পাশাপাশি বিশুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ দেওয়া হলো:

সুরা ফিল (سورة الإخلاص) আরবি বাংলা উচ্চারণ অর্থ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ১. কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়। اللَّهُ الصَّمَدُ ২. আল্লাহুস সামাদ আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন। لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ৩. লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইয়ুলাদ তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ৪. ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

নামের তাৎপর্য

সাধারণত কোরআনের অন্য সুরাগুলোর নাম সেই সুরার ভেতরে থাকা কোনো শব্দ দিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ‘ইখলাস’ শব্দটি এই সুরার কোথাও নেই। এর অর্থ হলো ‘একনিষ্ঠতা’। সুরার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর একত্ববাদ ও তাওহিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে সুরা ইখলাস।

শানে নুজুল: সুরা ইখলাস নাজিলের পটভূমি

তৎকালীন মক্কার মুশরিকরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আল্লাহ তাআলার বংশপরিচয় এবং তিনি কিসের তৈরি—স্বর্ণ নাকি রৌপ্য, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। তাদের এই ভ্রান্ত ধারণার জবাব দিতে এবং আল্লাহর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে সুরা ইখলাস নাজিল হয়। কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়, মদিনার ইহুদিদের প্রশ্নের জবাবেও এই সুরাটি অবতীর্ণ হয়েছিল।

সুরা ইখলাসের ৫ ফজিলত

হাদিসে সুরা ইখলাসের অনন্য কিছু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে:

  • কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান: আবু সাইদ আল খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তাঁর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন, এটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’ (সহিহ্ বুখারি)
  • জান্নাত নিশ্চিত হওয়া: এক সাহাবি সুরাটিকে অনেক ভালোবাসতেন এবং প্রতি নামাজে পাঠ করতেন। রাসুল (সা.) তাঁকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন এবং এই সুরার প্রতি ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।
  • জান্নাত ওয়াজিব হওয়া: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস পাঠ করতে শুনে বললেন, ‘এটি ওয়াজিব হয়ে গেল।’ প্রশ্ন করা হলো, কী ওয়াজিব হলো? তিনি বললেন, ‘জান্নাত।’
  • নিরাপত্তা ও সুরক্ষা: হাদিসে বলা হয়েছে, সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস এবং সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার পাঠ করলে তা সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট।
  • ঘুমানোর আগে আমল: হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার সময় দুই হাত একত্র করে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিতেন এবং পুরো শরীরে তিনবার মাসেহ করতেন।

আরও পড়ুন-

সুরা ফিল অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও হস্তী বাহিনীর ঘটনা

সুরা কাউসার: বাংলা উচ্চারণ, অর্থ, ব্যাখ্যা ও শানে নুজুল

সুরা ওয়াকিয়ার বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও আমল করার ফজিলত

১,২৫০ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ইতমিনান বোর্ডের সংবর্ধনা

কত বছর বয়স থেকে নামাজ ফরজ হয়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ জুলাই ২০২৬

কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণে হটলাইন চালু

দরুদ পড়লে যেভাবে দূর হয় দুশ্চিন্তা

ইবলিস জিন নাকি ফেরেশতা, ইসলাম কী বলে

মেসওয়াক কেন করবেন, ফজিলত ও উপকারিতা কী

জান্নাতের ৮ দরজার নাম-পরিচয়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৭ জুলাই ২০২৬

আহলে কিতাব বলতে ইসলামে কাদের বোঝানো হয়