হোম > ইসলাম

সকাল-সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ জিকির ও আমল

ইসলাম ডেস্ক

শীতের সকালে ইবাদতে ব্যস্ত এক মুসল্লি। ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

সারা দিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে শান্তির বার্তা নিয়ে যেমন সন্ধ্যা নেমে আসে, তেমনি আরেকটি নতুন দিনের সূচনা হয় ভোরের আলোয়। মুমিনের জীবনে সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট কিছু জিকির ও দোয়া আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় এমন কিছু বিশেষ জিকির ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা পাঠ করলে সারা দিনের নিরাপত্তা ও বরকত লাভের পাশাপাশি আখিরাতের কঠিন সময়েও তা মুক্তির মাধ্যম হবে।

মাগরিবের নামাজের পর এবং সকালের ফজর পরবর্তী সময়গুলোতে বরকতময় দোয়া ও আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সুরক্ষিত করতে পারেন। নিচে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বাছাইকৃত সকাল-সন্ধ্যার জিকির, দোয়া ও আমলগুলো তুলে ধরা হলো:

১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

  • উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রব্বি লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহ্দিকা, ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি, ফাগফিরলি; ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।
  • অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আমি আমার সাধ্যানুযায়ী আপনার সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর কায়েম আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার ওপর আপনার যে নিয়ামত রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।’

ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে বা সন্ধ্যায় এই সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে এবং ওই দিন বা রাতে তার ইন্তেকাল হয়, তবে সে জান্নাত লাভ করবে। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)

২. সুরক্ষাকবচ: সকল অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

  • উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস্সামাই ওয়া হুয়াসসামিউল আলিম।
  • অর্থ: ‘আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন।’
  • ফজিলত

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করলে আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্ট বা বিপদ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭২)

৩. সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির: তাসবিহ পাঠ

 আরবি বাংলা উচ্চারণ অনুবাদ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ  সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি। আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই।


ফজিলত

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল আর কেউ আনতে পারবে না।

৪. আয়াতুল কুরসি পাঠ

প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি পাঠকারীকে জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না এবং এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয়।

৫. আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার বিশেষ দোয়া

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا

  • উচ্চারণ: রাদিতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়াবিল ইসলামি দিনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।
  • অর্থ: ‘আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।’

ফজিলত

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৭০)

৬. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া

আরবি:

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

  • উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
  • অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।’

ফজিলত

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর কারও সঙ্গে কথাবার্তা না বলে সাতবার এই দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তবে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)

৭. সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ

সকাল ও সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পাঠ করলে সকল প্রকার অনিষ্টতা ও বিপদাপদ থেকে হেফাজতের জন্য তা যথেষ্ট হবে। (জামে তিরমিজি: ৩৫৭৫)

৮. সুরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত

মাগরিবের পর ‘আউযুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমি মিনাশ শাইতানির রজিম’ তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করা। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই আমল করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য ৭০ হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন, যারা সকাল পর্যন্ত তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকবে। সেদিন রাতে মারা গেলে শহীদের মৃত্যু নসিব হবে। (জামে তিরমিজি: ২৯২২)

সন্ধ্যা ও সকাল হলো ইবাদত ও আত্মিক প্রশান্তির এক অপূর্ব সময়। সারা দিনের ক্লান্তি পেরিয়ে এই বরকতময় সময়গুলোতে উপরিউক্ত জিকির ও দোয়াগুলো নিয়মিত আমলে রাখার মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মাসনুন আমলগুলো নিয়মিত করার এবং এর বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করুন।

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৮ নভেম্বর ২০২৬

বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া

রিজিক বৃদ্ধির দোয়া

খাবার শেষে পড়ার দোয়া

সন্তান প্রতিপালনে মা-বাবার দায়িত্ব

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৭ নভেম্বর ২০২৬

শীতকালের ইবাদতের প্রস্তুতি

ধারের টাকা পরিশোধে টালবাহানা: ইসলামের সতর্কবার্তা

যে ৫ মসজিদে লেগে আছে মদিনার সোনালি ইতিহাস

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ নভেম্বর ২০২৬