সারা দিনের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি শেষে শান্তির বার্তা নিয়ে যেমন সন্ধ্যা নেমে আসে, তেমনি আরেকটি নতুন দিনের সূচনা হয় ভোরের আলোয়। মুমিনের জীবনে সকাল ও সন্ধ্যার নির্দিষ্ট কিছু জিকির ও দোয়া আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সকাল ও সন্ধ্যায় এমন কিছু বিশেষ জিকির ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা পাঠ করলে সারা দিনের নিরাপত্তা ও বরকত লাভের পাশাপাশি আখিরাতের কঠিন সময়েও তা মুক্তির মাধ্যম হবে।
মাগরিবের নামাজের পর এবং সকালের ফজর পরবর্তী সময়গুলোতে বরকতময় দোয়া ও আমলের মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের জীবন সুরক্ষিত করতে পারেন। নিচে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ বাছাইকৃত সকাল-সন্ধ্যার জিকির, দোয়া ও আমলগুলো তুলে ধরা হলো:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে বা সন্ধ্যায় এই সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করবে এবং ওই দিন বা রাতে তার ইন্তেকাল হয়, তবে সে জান্নাত লাভ করবে। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করলে আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্ট বা বিপদ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭২)
রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার পড়বে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল আর কেউ আনতে পারবে না।
প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি পাঠকারীকে জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না এবং এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয়।
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا
রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৭০)
আরবি:
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের পর কারও সঙ্গে কথাবার্তা না বলে সাতবার এই দোয়াটি পাঠ করে এবং ওই দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হয়, তবে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)
সকাল ও সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পাঠ করলে সকল প্রকার অনিষ্টতা ও বিপদাপদ থেকে হেফাজতের জন্য তা যথেষ্ট হবে। (জামে তিরমিজি: ৩৫৭৫)
মাগরিবের পর ‘আউযুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমি মিনাশ শাইতানির রজিম’ তিনবার পড়ে সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত একবার পাঠ করা। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি এই আমল করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য ৭০ হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করবেন, যারা সকাল পর্যন্ত তাঁর জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকবে। সেদিন রাতে মারা গেলে শহীদের মৃত্যু নসিব হবে। (জামে তিরমিজি: ২৯২২)
সন্ধ্যা ও সকাল হলো ইবাদত ও আত্মিক প্রশান্তির এক অপূর্ব সময়। সারা দিনের ক্লান্তি পেরিয়ে এই বরকতময় সময়গুলোতে উপরিউক্ত জিকির ও দোয়াগুলো নিয়মিত আমলে রাখার মাধ্যমে একজন মুমিন তাঁর দুনিয়া ও আখিরাতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই মাসনুন আমলগুলো নিয়মিত করার এবং এর বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করুন।