হোম > ইসলাম

এ বছর কত টাকার মালিক হলে কোরবানি দিতে হবে

মুফতি হাসান আরিফ

কোরবানির হাট। ছবি: সংগৃহীত

কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এটি পালন করা ওয়াজিব। তবে ঠিক কতটুকু সম্পদ বা টাকা থাকলে কোরবানি দেওয়া আবশ্যক হয়, তা নিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষের মনে অস্পষ্টতা থাকে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে এ বিষয়ে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।

কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার শর্তাবলি যার মধ্যে পাওয়া যাবে, তার যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে সে কোরবানি দিতে হবে। অর্থাৎ—

  1. ব্যক্তিকে মুসলিম হতে হবে।
  2. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।
  3. ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে।

কোরবানির নেসাব ও সম্পদের হিসাব

কোরবানির নেসাব হলো স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি অথবা রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। বর্তমান সময়ে রুপার দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় রুপার নেসাবটিকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়।

কারও কাছে যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা, সোনা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ (যেমন—অতিরিক্ত জমি, বাড়ি, গাড়ি বা আসবাব) থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।

কত টাকা থাকলে এ বছর কোরবানি দিতে হবে?

নেসাবের পরিমাণ টাকা মূলত রুপার বাজারদরের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৫৬৮ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। সে হিসাবে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৫ টাকার আশপাশে। অর্থাৎ ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে কারও কাছে যদি সব খরচ বা ঋণ বাদে এই পরিমাণ টাকা বা সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তবে তাকে কোরবানি দিতে হবে।

তবে মনে রাখা জরুরি, কোরবানির দিনগুলোতে রুপার দাম কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তাই ১০ থেকে ১২ জিলহজ সময়ের বাজারদর অনুযায়ী টাকার পরিমাণ হিসাব করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৬)।

হাদিসের সতর্কবার্তা

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার মতো সামর্থ্য আছে, তবুও তারা কোরবানি দেয় না, তাদের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

‘যার কোরবানির সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ)।

কোরবানির ফজিলত

কোরবানি কেবল পশু জবেহ করা নয়, বরং এটি ত্যাগের মহিমা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরবানির পশুর প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। এমনকি কিয়ামতের দিন এই পশুকে তার শিং, পশম, ক্ষুরসহ উপস্থিত করা হবে এবং এটি মিজানের পাল্লায় ভারী হবে।

তাই নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে কোনো ধরনের অবহেলা না করে সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি আদায় করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।