নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমা বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধার পর প্রথম যে দোয়াটি পড়া হয়, তাকে ‘সানা’ বলা হয়। সানা পাঠ করা সুন্নতে মুআক্কাদা। একা নামাজ আদায়কারী, ইমাম ও মুক্তাদি—সবার জন্যই সানা পড়া সুন্নত।
নামাজে আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বাঁধার পর প্রথম কাজ হলো অনুচ্চস্বরে সানা পড়া। সানা মূলত পুরো নামাজে মাত্র একবারই পড়তে হয়, একাধিকবার পড়ার নিয়ম নেই। প্রথম রাকাতে কেরাত শুরু করার আগে সানা পড়া হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ শুরু করার সময় এই দোয়াটি সানা হিসেবে পড়তেন—‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।’
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনার নাম বরকতপূর্ণ, আপনার মাহাত্ম্য সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। (সহিহ বুখারি: ৮০৪; সুনানে আবু দাউদ: ২৪৩)
সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুল (সা.) সানা হিসেবে আরও একটি দোয়া পড়তেন। সেটি হলো—‘আল্লাহুম্মা বায়িদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতায়া-য়া। কামা বায়াদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব। আল্লাহুম্মা নাক্কিনি মিনা খাতায়া-য়া কামা ইউনাক্কিছ ছাউবুল আব ইয়াদু মিনাদ দানাস। আল্লাহুম্মাগ সিলনি মিন খাতায়া-য়া বিলমায়ি ওয়াছ ছালজি ওয়াল বারাদ।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আপনি আমার ও আমার পাপের মাঝে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ, আমাকে পাপ থেকে এমনভাবে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করুন, যেভাবে সাদা ধবধবে কাপড়কে নোংরা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ, আমার পাপরাশিকে পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে ধৌত করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, ১ / ২৫৯; সহিহ মুসলিম, ১ / ৪১৯)
সানা নামাজ শুরুর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। একা পড়ি বা জামাতে, এই সুন্নতের প্রতি আমাদের যত্নশীল হওয়া উচিত।