ইসলাম ধর্মে জুমার দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এটি সপ্তাহের সেরা দিন এবং একে মুমিনের জন্য ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরাও রয়েছে। শুক্রবার প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মুসলিম পুরুষদের জন্য জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ।
কিন্তু জুমার নামাজ মূলত কত রাকাত এবং এটি পড়ার সঠিক নিয়ম কী? জোহরের নামাজের সঙ্গে এর পার্থক্যই বা কোথায়? আসুন আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বিস্তারিত জেনে নেই।
ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, জুমার ফরজ নামাজ দুই রাকাত। তবে এই ফরজ নামাজের আগে ও পরে নির্দিষ্ট কিছু সুন্নত নামাজ রয়েছে, যা মিলিয়ে সাধারণত ১০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়।
(উল্লেখ্য, মসজিদে প্রবেশ করার পর বসার আগে দুই রাকাত ‘দুখুলিল মসজিদ’ নফল নামাজ পড়াও সুন্নত। তবে সুন্নত বা নফল নামাজ নিয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও জুমার ফরজ যে দুই রাকাত, এ নিয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই।)
জুমার নামাজ জোহরের সময়েই পড়া হয়, তবে সাধারণ জোহরের নামাজের সঙ্গে এর চারটি প্রধান পার্থক্য রয়েছে:
জুমার নামাজ মূলত জোহরের ওয়াক্ত বা সময়েই শুরু হয়। এর সঠিক নিয়মটি নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
জুমার আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত কেনাবেচা ও দুনিয়াবি কাজ বন্ধ করে দ্রুত মসজিদের দিকে রওনা হওয়া কোরআনের নির্দেশ (সুরা জুমা: ০৯)। মসজিদে প্রবেশ করে প্রথমে চার রাকাত ‘কাবলাল জুমা’ সুন্নত নামাজ সাধারণ সুন্নত নামাজের নিয়মেই একাকী আদায় করে নিতে হবে।
সুন্নত শেষ করার পর ইমাম সাহেব মিম্বারে বসে দুটি খুতবা দেবেন। খুতবা চলাকালীন অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে তা শুনতে হবে। এই সময়ে কোনো কথা বলা বা অন্য কোনো নামাজ পড়া যাবে না।
খুতবা শেষ হলে মুয়াজ্জিন ইকামত দেবেন এবং ইমামের পেছনে কাতার সোজা করে দাঁড়াতে হবে।
ফরজ নামাজ শেষ করে সালাম ফেরানোর পর মুসল্লিরা নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে আরও চার রাকাত ‘বাদাল জুমা’ সুন্নত নামাজ একাকী আদায় করবেন।
কোনো যুক্তিসংগত কারণ (যেমন মারাত্মক অসুস্থতা) ছাড়া জুমার নামাজ ত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে কোনো কারণে (যেমন—ঘুম থেকে দেরি করে ওঠা বা ব্যস্ততা) যদি কারও জুমার নামাজ ছুটে যায়, তবে তিনি আর একা একা জুমার নামাজ পড়তে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে তাঁকে জুমার পরিবর্তে চার রাকাত জোহরের ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
অনুরূপভাবে, কোনো ব্যক্তি যদি মুসাফির বা ভ্রমণকারী অবস্থায় থাকেন, তবে তাঁর ওপর জুমা ফরজ থাকে না। তিনি চাইলে জোহরের নামাজ (কসর) পড়তে পারেন, তবে সুযোগ থাকলে জামাতে জুমা আদায় করাই উত্তম।