হোম > ইসলাম

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল: অর্থ, ফজিলত ও আমলের নিয়ম

ইসলাম ডেস্ক 

ছবি: সংগৃহীত

বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা শত্রুর হাত থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো—‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’। দোয়াটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতার অনন্য ঘোষণা। অসুস্থতা, উদ্বেগ কিংবা কোনো বড় ক্ষতির আশঙ্কার সময় এই আমল মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি আনে।

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল অর্থ ও আরবি-

এই দোয়ার দুটি অংশ মূলত পবিত্র কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াতের সংকলন। এর পূর্ণাঙ্গ রূপ ও অর্থ নিচে দেওয়া হলো:

আরবি: حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، نِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ

বাংলা উচ্চারণ: হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল। নিমাল মাওলা ওয়া নিমান নাসির।

অর্থ: আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই হলেন উত্তম কর্মবিধায়ক; আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিলের ফজিলত-

ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে নবী-রাসুলগণ এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য পেয়েছেন:

  • নমরুদ যখন ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনের কুণ্ডে নিক্ষেপ করে, তখন তিনি এই দোয়াটি পাঠ করেছিলেন। ফলে আল্লাহর নির্দেশে জ্বলন্ত আগুন তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে গিয়েছিল। (সহিহ্ বুখারি: ৪৫৬৩)
  • খন্দকের যুদ্ধে যখন ১০ হাজার শত্রুসেনা মদিনা ঘেরাও করে, তখন সাহাবিরা দোয়াটি পাঠ করে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছিলেন।
  • রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের ভয়াবহ বর্ণনা শুনে সাহাবিদের আতঙ্কিত হতে দেখে তাঁদের এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার পরামর্শ দেন। (জামে তিরমিজি: ২৪৩১)

পবিত্র কোরআনে এই দোয়ার প্রেক্ষাপট-

এই দোয়ার প্রতিটি অংশ কোরআনের সুগভীর অর্থবহ আয়াত থেকে নেওয়া হয়েছে:

  • ১. সুরা আলে ইমরান (আয়াত ১৭৩): বদরের যুদ্ধের কঠিন সময়ে যখন সাহাবিদের ভয় দেখানো হয়েছিল, তখন তাঁরা বলেছিলেন—‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’। এটি তাঁদের ইমানকে আরও দৃঢ় করেছিল।
  • ২. সুরা আনফাল (আয়াত ৪০) ও সুরা হজ (আয়াত ৭৮): এই আয়াতগুলোতে আল্লাহকে ‘নিমাল মাওলা’ (উত্তম অভিভাবক) ও ‘নিমান নাসির’ (উত্তম সাহায্যকারী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আমল করার নিয়ম-

  • যেকোনো সময় এবং যেকোনো অবস্থায় অজু ছাড়াও এই জিকির করা যায়।
  • তবে বিশেষ প্রয়োজনে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে এই দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য চাইলে দ্রুত দোয়া কবুল হওয়ার আশা থাকে।
  • এই দোয়ার মূল শক্তি হলো আল্লাহর ‘ওয়াকিল’ বা অভিভাবকত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা।

বিপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির আমল-

মানুষের জীবন সব সময় একরকম যায় না। কখনো জুলুমের শিকার হলে, অন্যায়ভাবে কারাবন্দী থাকলে কিংবা ঘোরতর মানসিক সংকটে পড়লে এই দোয়ার আমল করা অত্যন্ত কার্যকর।

আল্লাহর ওপর ভরসা করার অর্থ এই নয় যে আমরা চেষ্টা করব না, বরং চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়াই হলো প্রকৃত তাওয়াক্কুল। ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ পড়ার মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে, পৃথিবীর কোনো শক্তি নয়; বরং একমাত্র আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।

১,২৫০ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ইতমিনান বোর্ডের সংবর্ধনা

কত বছর বয়স থেকে নামাজ ফরজ হয়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ৩০ জুলাই ২০২৬

কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণে হটলাইন চালু

দরুদ পড়লে যেভাবে দূর হয় দুশ্চিন্তা

ইবলিস জিন নাকি ফেরেশতা, ইসলাম কী বলে

মেসওয়াক কেন করবেন, ফজিলত ও উপকারিতা কী

জান্নাতের ৮ দরজার নাম-পরিচয়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৭ জুলাই ২০২৬

আহলে কিতাব বলতে ইসলামে কাদের বোঝানো হয়