দিন শেষে রাত নেমে এসেছে মক্কার আকাশে। ধীরে ধীরে রাত গভীর হচ্ছে। বাড়ছে নিস্তব্ধতা। কমছে কোলাহল। এসবের মাঝেই নতুন এক আলোর আগমনের অপেক্ষা। মক্কার এক প্রান্তে বসে অপেক্ষা করছেন এক ইহুদি পণ্ডিত। তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির। মনোযোগ গভীর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়েছেন বলেই চেহারায় ভাসছে।
রাত শেষে ভোর নেমে আসছে। সুবহে সাদিক নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে ইতিমধ্যে। ইহুদি পণ্ডিত বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন। কী যেন মনে করে হাঁটতে শুরু করলেন। হাঁটতে হাঁটতে গেলেন কুরাইশ গোত্রের বসতির কাছে। একজনকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আজ রাতে কি তোমাদের কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করেছে?’
ওই ব্যক্তি তো অবাক—এই অসময়ে এসে এমন অদ্ভুত প্রশ্ন করছে কেন পণ্ডিত সাহেব! কিছুটা বিরক্তির সুরে বললেন, ‘না, আমার জানা নেই।’
পণ্ডিত বললেন, ‘শোনো, আজ রাতে শেষ নবী দুনিয়ায় এসেছেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুয়তের মোহর আছে। তিনি দুই রাত পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করবেন না। আর সেই শেষ নবী তোমাদের কুরাইশ গোত্রের কারও ঘরেই জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
এই কথা শুনে ওই লোক নড়েচড়ে বসলেন। এ যে এক অলৌকিক সংবাদ! তিনি দ্রুত আশপাশের মানুষকে খবর দিলেন। সবাই মিলে বের হলো খোঁজ নিতে। জানা গেল, আবদুল্লাহর স্ত্রী আমেনার ঘর আলোকিত করে এক পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে।
খবরটি জানানো হলো ইহুদি পণ্ডিতকে। তিনি কালবিলম্ব না করে ছুটে গেলেন সেখানে। নবজাতকের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি মুগ্ধ হয়ে গেলেন। শিশুটিকে ভালোভাবে পরখ করে পবিত্র কাঁধের মাঝখানে নবুয়তের মোহর খুঁজে পেলেন। কিন্তু নবুয়তের মোহর দেখার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। লোকজন চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে তাঁর জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করলেন। সেই চেষ্টা সফলও হলো। জ্ঞান ফিরে পেলেন ইহুদি পণ্ডিত। কিন্তু তাঁর গলায় আফসোসের সুর, না পাওয়ার বেদনা—‘হায়! নবুয়ত তো বনি ইসরাইল থেকে চলে গেল।’
এরপর তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করলেন। শেষ নবীকে কোলে নেওয়ার সৌভাগ্য তাঁকে বিমোহিত করল। তাঁর মুখে দেখা গেল হাসির রেখা। তিনি কুরাইশদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘শোনো, এই নবীর বরকতে তোমাদের কুরাইশ গোত্রের প্রভাব-প্রতিপত্তি দিন দিন বেড়েই চলবে। তাঁর আগমনের খবর পৃথিবীর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়বে।’
তথ্যসূত্র: মুস্তাদরাকে হাকিম: ৪১৭৭