সুরা তিন কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে, তাই এটি মাক্কি সুরা হিসেবে পরিচিত। এর নামের অর্থ হলো তিন বা আঞ্জির (ডুমুর) ফল।
পবিত্র কোরআনের ৯৫তম সুরা হলো সুরা তিন (سورة التين)। আট আয়াতবিশিষ্ট এই সুরা পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সুরায় আল্লাহ তাআলা চারটি পবিত্র বিষয়ের কসম খেয়ে মানুষের সৃষ্টিতত্ত্ব ও পরকালের বিচার দিবসের অমোঘ সত্য বর্ণনা করেছেন।
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
(পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি)
১. وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ
উচ্চারণ: ওয়াত্তিনি ওয়াজ্জাইতুন।
অর্থ: শপথ তিন ও জাইতুন ফলের।
২. وَطُورِ سِينِينَ
উচ্চারণ: ওয়াতুরি সিনিন।
অর্থ: শপথ ‘সিনাই’ পর্বতের।
৩. وَهَٰذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ
উচ্চারণ: ওয়া হা-জাল বালাদিল আমিন।
অর্থ: শপথ এই নিরাপদ নগরীর (মক্কা শরিফের)।
৪. لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ
উচ্চারণ: লাকাদ খালাকনাল ইনসা-না ফি আহসানি তাকউইম।
অর্থ: অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে।
৫. ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ
উচ্চারণ: ছুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সা-ফিলিন।
অর্থ: অতঃপর আমি তাকে হীনতার সবচেয়ে নিম্ন স্তরে ফিরিয়ে দিয়েছি।
৬. إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ
উচ্চারণ: ইল্লাল্লাজি-না আ-মানু ওয়া আমিলুস সা-লিহা-তি ফালাহুম আজরুন গাইরু মামনুন।
অর্থ: কিন্তু তাদের নয়, যারা ইমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে; তাদের জন্য আছে অফুরন্ত পুরস্কার।
৭. فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعْدُ بِالدِّينِ
উচ্চারণ: ফামা ইউকাজ্জিবুকা বাদু বিদ্দিন।
অর্থ: কাজেই (হে মানুষ) এরপর কিসে তোমাকে কর্মফল দিবস সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে?
৮. أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ
উচ্চারণ: আলাইসাল্লা-হু বিআহকামিল হা-কিমিন।
অর্থ: আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?
১. শপথের তাৎপর্য: এই সুরায় আল্লাহ তাআলা চারটি পবিত্র স্থানের বা নিদর্শনের শপথ নিয়েছেন:
২. মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব: আল্লাহ মানুষকে ‘আহসানি তাকউইম’ বা সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন। শুধু শারীরিক গঠন নয়, বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব (আশরাফুল মাখলুকাত) করা হয়েছে।
৩. পতনের কারণ: যদি মানুষ আল্লাহর ওপর বিশ্বাস না রাখে এবং সৎকাজ না করে, তবে সে পশুর চেয়েও অধম হয়ে যায় এবং জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে নিক্ষিপ্ত হয়।
৪. আল্লাহর সুবিচার: সুরার শেষে মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পরম ন্যায়বিচারক হিসেবে সবার কৃতকর্মের হিসাব নেবেন।
সুরা তিন আমাদের শিক্ষা দেয় যে, মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মিক ও আমলি সৌন্দর্যই আল্লাহর কাছে বেশি মূল্যবান। সুন্দরতম গঠনে তৈরি হয়েও যদি কেউ ইমান ও নেক আমল থেকে দূরে থাকে, তবে তার পতন অনিবার্য।