সুরা রহমান পবিত্র কোরআনের ৫৫ তম সুরা। এই সুরায় মোট ৭৮টি আয়াত রয়েছে। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে কি না তা নিয়ে মুফাসসিরদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, এর অধিকাংশ ভাব ও বিষয়ের কারণে অনেকে একে মক্কি সুরা হিসেবে গণ্য করেন।
সুরা রহমানে আল্লাহর অসীম রহমত, সৃষ্টির বিস্ময়কর মহিমা এবং মানুষ ও জিন জাতির প্রতি তাঁর অগণিত নেয়ামতের কথা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে। সুরাটির বারবার পুনরাবৃত্ত আয়াত ‘ফাবিআইয়ি আলাই রাব্বিকুমা তুকাজজিবান’ (অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?) মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও গভীর প্রভাব সৃষ্টি করে।
সুরা আর-রহমানে আল্লাহর করুণা ও সৃষ্টির সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে।
আল্লাহর অবিনশ্বরতা: মহাবিশ্বের সবকিছুই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, কেবল আল্লাহর মহান সত্তাই অবশিষ্ট থাকবে—এই শাশ্বত সত্যটি সুরাটিতে জোরালোভাবে বর্ণিত হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত লাভের পর মক্কার কুরাইশরা আল্লাহর ‘রহমান’ নামটির ব্যাপারে বিদ্রূপ করত। তারা বলাবলি করত, ‘রহমান আবার কে?’ তারা মূর্তিপূজায় অভ্যস্ত ছিল এবং আল্লাহর এই গুণবাচক নামের তাৎপর্য সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল না। তাদের এই কৌতূহল ও অস্বীকারের জবাব হিসেবে আল্লাহ তাআলা এ সুরা নাজিল করে নিজের ‘রহমান’ নামের মাহাত্ম্য ও কুদরত ব্যাখ্যা করেন।
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি জিনিসের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে; আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা আর-রহমান।’ (সুনানে বায়হাকি)। হাদিসে আরও এসেছে, এই সুরা পাঠের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তা তার ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর হয়।