কালিমা শাহাদাত হলো ইসলামের ৫টি স্তম্ভের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কালিমা অর্থ বাণী বা বাক্য এবং শাহাদাত অর্থ সাক্ষ্য প্রদান করা। অর্থাৎ কালিমা শাহাদাতের অর্থ হলো সাক্ষ্য প্রদানের বাণী। এই কালিমা ইমানের মূল বাণী। এর মাধ্যমেই মুমিন তার বিশ্বাসের ঘোষণা প্রদান করে।
কালিমা শাহাদাতের বাংলা উচ্চারণ
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
কালিমা শাহাদাতের বাংলা অনুবাদ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের উপযুক্ত না। তিনি এক ও একক—তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
কালিমা শাহাদাতের ৩ শিক্ষা
কালেমা শাহাদাত ইসলামে প্রবেশের প্রথম ভিত্তি। প্রথমাংশে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য এবং দ্বিতীয়াংশে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াতের সাক্ষ্য প্রদান করতে হয়। এই সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে সব কুফর, শিরক ও বিদআত মুক্তজীবন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
কালিমা শাহাদাত আমাদের তিনটি বিশেষ গুণের শিক্ষা দেয়
১. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আনুগত্য।
২. আল্লাহ ও তাঁর রাসুল পরম পবিত্র। তাঁদের সান্নিধ্য পেতে হলে মুমিনকে চিন্তা ও কাজে পবিত্র হতে হয়।
৩. মুমিন কখনো মিথ্যা বলতে পারে না। সত্য সাক্ষ্যদানের মাধ্যমেই ইমানের সূচনা হয় এবং সারাজীবন এ সত্যকে আঁকড়ে ধরে রাখাই কর্তব্য।
কালিমা শাহাদাতের ফজিলত
অসংখ্য হাদিসে কালেমা শাহাদাতের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিয়মিত এই কালেমা পাঠ করলে পরকালে মুক্তি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া হাদিসে এসেছে, কেউ যদি উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ রূপে অজু করার পর পাঠ করে—‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’ তাহলে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। সে ইচ্ছা করলে এর যেকোনো দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করতে পারবে। (সহিহ্ মুসলিম: ২৩৪)