পরকালে সফলকাম ও জান্নাতবাসী হতে হলে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের নবীজি (সা.) যেমন নানা বিষয়ে আদেশ করেছেন এবং উত্তম আমলের পথ বাতলে দিয়েছেন, তেমনি বড় বড় গুনাহ ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু গুনাহ এতটাই ভয়াবহ যে তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অভিশাপ বা লানত বর্ষিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি মারাত্মক সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যাধি হলো ‘মদ’ বা মাদক।
মাদক ও মদের অপকারিতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ভয়াবহতা সম্পর্কে হাদিস শরিফে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। জামে তিরমিজির ১২৯৮ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদ সম্পর্কে ১০ শ্রেণির মানুষকে লানত (অভিশাপ) করেছেন। তারা হলো:
১. মদ প্রস্তুতকারী (যে নিজ হাতে মদ তৈরি করে)।
২. মদ প্রস্তুতের আদেশদাতা (যে অন্যকে মদ তৈরি করতে বলে বা এর কারখানা স্থাপন করে)।
৩. মদ পানকারী (যে তা নিজে সেবন করে)।
৪. মদ বহনকারী (যে মদের বোতল বা কনটেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করে)।
৫. যার জন্য মদ বহন করা হয় (যার কাছে মদের চালান পাঠানো হয়)।
৬. যে মদ পান করায় (পরিবেশনকারী বা যে অন্যকে মদ পানে বাধ্য বা উৎসাহিত করে)।
৭. মদ বিক্রেতা (যে মদের ব্যবসা বা কেনাবেচা করে)।
৮. মদের মূল্য গ্রহণকারী (মদ বিক্রি করে যে অর্থ বা লভ্যাংশ গ্রহণ করে)।
৯. যে মদ ক্রয় করে (মদের ক্রেতা)।
১০. যার জন্য মদ ক্রয় করা হয় (যার উদ্দেশ্যে বা টাকায় মদ কেনা হয়)।
সুতরাং, পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনে সফল হতে এবং আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর লানত বা অভিশাপ থেকে বাঁচতে হলে মদ, জুয়া ও মাদকের মতো সমস্ত সমাজবিধ্বংসী মহামারি থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে দূরে রাখতে হবে।