জ্ঞান এমন এক আলোকধারা, যা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে মানুষের চেতনা, বিবেক ও চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করে। শারীরিক শক্তি বা ক্ষমতার দিক থেকে অনেক প্রাণী মানুষের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার কারণে মানুষ ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা লাভ করেছে।
জ্ঞান মানুষকে বিবেকবান, নীতিবান ও মার্জিত করে তোলে। একজন শিক্ষিত ও জ্ঞানী ব্যক্তি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্বসভায় সর্বত্র সম্মানিত হন। ইতিহাসে সুফিসাধক, মনীষী, বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রনায়কদের স্থায়ী প্রভাবের পেছনে জ্ঞানসাধনাই ছিল মূল শক্তি। আলবার্ট আইনস্টাইন, ড. এ পি জে আব্দুল কালামসহ অসংখ্য মনীষী তাঁদের জ্ঞান, গবেষণা ও অবদানের মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, কোনো জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষার প্রসার, সাক্ষরতার হার এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ। যেসব সমাজে শিক্ষা ও গবেষণার চর্চা বেশি, সেসব সমাজ সাধারণত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অধিক উন্নত হয়।
ইসলামে জ্ঞানের মর্যাদা অপরিসীম। পবিত্র কোরআনের প্রথম ওহিই ছিল, ‘পড়, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক: ১)। এটি মানবজাতির জন্য জ্ঞানচর্চার এক চিরন্তন আহ্বান। অন্যদিকে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি—‘জ্ঞানই পুণ্য’। এ কথাও জ্ঞানের নৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে। অর্থাৎ মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বোধ ও সুশীল চরিত্র গঠনের অন্যতম ভিত্তি হলো জ্ঞান।
অজ্ঞতা মানুষকে বিভ্রান্তি, কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতার দিকে ঠেলে দেয়। পক্ষান্তরে জ্ঞান মানুষকে প্রজ্ঞা, আত্মমর্যাদা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের যোগ্যতা দান করে। জ্ঞান শুধু ব্যক্তির চরিত্র গঠনই করে না, বরং একটি জাতি ও সভ্যতার উন্নতির ভিত্তিও নির্মাণ করে। তাই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ধন-সম্পদ বা ক্ষমতায় নয়; বরং তার অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা এবং সেই জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যে নিহিত।
লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, কশবামাজাইল,পাংশা, রাজবাড়ী।