হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং একজন মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
হজের প্রতিটি ধাপের রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম ও গভীর তাৎপর্য। ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে আরাফার ময়দানে অবস্থান, মুজদালিফায় রাত যাপন, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি, তাওয়াফ ও সাঈ—সবকিছুই মহান আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। তাই হজ শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে আদায় করতে হলে এর নিয়মকানুন ও করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
১. ইহরাম ও নিয়ত: সরাসরি মক্কায় গেলে ঢাকা থেকেই ইহরাম বেঁধে যাওয়া উত্তম। ইহরামের আগে গোসল বা অজু করে সেলাইবিহীন দুটি সাদা কাপড় (পুরুষদের জন্য) পরিধান করতে হবে। এরপর হজের নিয়ত করে উচ্চ স্বরে তিনবার তালবিয়া পাঠ করতে হয়—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’
২. মিনায় অবস্থান (৮ জিলহজ): হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মিনায় যাওয়ার মাধ্যমে। ৮ জিলহজ জোহরের আগেই মিনায় পৌঁছাতে হয়। সেখানে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরের দিনের ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং রাত যাপন করা সুন্নত।
৩. আরাফার ময়দানে অবস্থান (৯ জিলহজ): ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশে রওনা হতে হয়। জোহর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানে অবস্থান করা হজের শ্রেষ্ঠ রুকন বা ফরজ। এদিন জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করা হয়। সূর্যাস্তের পর মাগরিব না পড়েই মুজদালিফার দিকে রওনা হতে হয়।
৪. মুজদালিফায় রাত যাপন: আরাফা থেকে ফিরে মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা একত্রে পড়তে হয়। খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করা এবং সেখান থেকে শয়তানকে মারার জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করা নিয়ম।
৫. ১০ জিলহজ (বড় শয়তানকে পাথর মারা ও কোরবানি): ১০ জিলহজ সকালে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারতে হয়। এরপর কোরবানি দিয়ে মাথার চুল ফেলে বা ছোট করে ইহরাম খুলতে হয়। একে ‘হালাল হওয়া’ বলে। এরপর সেলাই করা কাপড় পরা যায়।
৬. তাওয়াফে জিয়ারত ও সাঈ: ১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে যেকোনো সময় কাবা শরিফ গিয়ে ‘তাওয়াফে জিয়ারত’ (ফরজ) করতে হয় এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করতে হয়।
৭. বিদায়ী তাওয়াফ: হজের সব কাজ শেষ করে নিজ দেশে ফেরার আগে কাবা শরিফে যে শেষ তাওয়াফ করা হয়, তাকে বিদায়ী তাওয়াফ বলে। এটি সম্পন্ন করার মাধ্যমেই হজের পূর্ণাঙ্গ সফর শেষ হয়।
ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা, সেলাই করা পোশাক পরা (পুরুষদের জন্য), নখ বা চুল কাটা এবং ঝগড়া-বিবাদ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হজের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা উচিত।