ঘুমের মধ্যে বিভিন্ন প্রাণীর ডাক শোনা বা তাদের আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত অভিজ্ঞতা। কেউ স্বপ্নে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শোনেন, কেউ সিংহের গর্জন, আবার কেউ মোরগ, গাধা কিংবা পাখির ডাক শুনে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এসব স্বপ্ন কি বিশেষ কোনো অর্থ বহন করে? ইসলামি স্বপ্নতত্ত্বে বিভিন্ন প্রাণীর ডাকের ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকী ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।
সিংহের গর্জন শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির উপস্থিতি কিংবা ভীতিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত। কুকুরের ঘেউ ঘেউ মূর্খ, বিদ্বেষী বা অশোভন ভাষায় কথা বলা ব্যক্তির প্রতীক হতে পারে। শিয়ালের ডাক ধোঁকাবাজ বা কৌশলী মানুষের প্রতি সতর্কবার্তা নির্দেশ করে।
স্বপ্নে গাধার ডাক শোনা কঠোর বা অপছন্দনীয় কথা শোনার ইঙ্গিত। মোরগের ডাক কল্যাণ, সুসংবাদ বা উপকার লাভের প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করবে। কেননা সে ফেরেশতা দেখে ডাকে। আর যখন গাধার ডাক শুনবে, তখন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইবে। কেননা সে শয়তানকে দেখে ডাকে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩০৩)
যদিও এ হাদিস বাস্তবজীবনে মোরগ ও গাধার ডাক সম্পর্কে, তবু স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারীরা এসব প্রাণীর প্রতীকী তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে এ ধরনের বর্ণনাকে সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভেড়া, ছাগল, উট কিংবা অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর ডাক অনেক ক্ষেত্রে জীবিকা, পরিবার বা সামাজিক সম্পর্ক ভালো হওয়ার প্রতীক বহন করে। অন্যদিকে হিংস্র প্রাণীর আওয়াজ শত্রুতা, ভয় বা প্রতিকূল পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করতে পারে। কোথাও কোথাও পাখির ডাককে সুসংবাদ আগমনের প্রতীক বলা হয়েছে।
আসলে স্বপ্নে প্রাণীর ডাক শুনলে তার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা জানা যেতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত জ্ঞান যে একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই রয়েছে, এ বিশ্বাস অবশ্যই অটুট রাখতে হবে।