মানুষ সামাজিক জীব। দৈনন্দিন জীবনে তাকে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় চলাফেরা করতেই হয়। এই চলাচলের মধ্যেও ইসলামের রয়েছে নির্দিষ্ট আদব ও শিষ্টাচার। রাস্তা কেবল চলার স্থান নয়, এটি সামাজিক আচরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। চলাফেরার ক্ষেত্রে তাই শরিয়তের নিয়ম মেনে চলা উচিত।
দৃষ্টি সংযত রাখা: রাস্তায় চলার সময় দৃষ্টি সংযত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম পুরুষ ও নারী উভয়কেই নিজের দৃষ্টি হেফাজত করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া অন্যের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিশেষত গুনাহের আশঙ্কা থাকলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(হে নবী) আপনি মুমিনদের বলুন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে।’ (সুরা নুর: ৩০)
সালাম বিনিময় করা: রাস্তায় দেখা হলে মুসলমানরা একে অপরকে সালাম দেবে। এটি সুন্নাহ এবং ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার একটি সুন্দর মাধ্যম। এতে সমাজে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি বিষয়ের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালাম প্রচার করো।’ (সহিহ মুসলিম: ৫৪)
নম্রতা বজায় রাখা: চলাফেরায় বিনয় ও নম্রতা বজায় রাখা মুমিনের অবশ্যকর্তব্য। আল্লাহ তাআলা অহংবোধ নিয়ে চলতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণ কোরো না। তুমি তো জমিনকে বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায়ও পাহাড় সমান হতে পারবে না।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৩৭)
কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ: পথচারীদের কষ্ট দেয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। রাস্তার মাঝখানে ময়লা, কাঁটা বা বিপজ্জনক বস্তু ফেলে রাখা, উচ্চ স্বরে ঝগড়া করা প্রভৃতি আচরণ ইসলামে নিন্দিত। উপরন্তু রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করাকে রাসুল (সা.) ইমানের শাখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ৩৫)
যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলা ও ধৈর্য বজায় রাখা জরুরি। অযথা হর্ন বাজানো, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো বা ট্রাফিক আইন অমান্য করা আইন পরিপন্থী কাজ। এতে অন্যের জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়, যা ইসলামের দৃষ্টিতেও অন্যায়।