পবিত্র কোরআনের ১১৪তম এবং সর্বশেষ সুরার নাম সুরা নাস। এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সুরা। মদিনায় অবতীর্ণ এই সুরার আয়াত সংখ্যা ৬ এবং রুকু ১। শয়তানের কুমন্ত্রণা, জাদুটোনা এবং যাবতীয় অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য সুরা নাসের আমল অত্যন্ত কার্যকর।
ইতিহাস ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, সুরা ফালাক ও সুরা নাস একসঙ্গে নাজিল হয়েছিল। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর মদিনার এক ইহুদি লাবিদ ইবনে আসাম এবং তার কন্যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর জাদু করেছিল। এর ফলে প্রিয় নবী (সা.) কিছুটা অসুস্থ অনুভব করেন।
অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে জাদুর আসল রহস্য উন্মোচিত হয়।
জানা যায়, একটি চিরুনি ও চুল দিয়ে জাদু করে তা ‘যারওয়ান’ কূপের তলদেশের একটি পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। ফেরেশতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেই বস্তু কূপ থেকে তুলে আনা হয় এবং এই দুই সুরা (ফালাক ও নাস) পাঠ করে গিরাগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। (তাফসির ইবনে কাসির)
সুরা নাসের অশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিস শরিফে এর নিয়মিত আমলের তাগিদ দেওয়া হয়েছে:
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত:
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যেতেন, তখন নিজের উভয় হাত একসঙ্গে মিলাতেন এবং তাতে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে ফুঁ দিতেন। এরপর মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশসহ সাধ্যমতো পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি এটি তিনবার করতেন।
—(সহিহ বুখারি: ৫০১৭)