হোম > ইসলাম

সুরা তাকাসুর: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও আমলের ফজিলত

সুরা তাকাসুর কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। এতে মোট ৮টি আয়াত এবং ১টি রুকু রয়েছে। সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে, তাই এটি মাক্কি সুরা হিসেবে পরিচিত।

ইসলাম ডেস্ক 

সুরা তাকাসুর।

পবিত্র কোরআনের ১০২তম সুরা হলো তাকাসুর (سورة التكاثر)। এই সুরায় আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রাচুর্যের মোহ, দুনিয়াদারির প্রতিযোগিতা এবং পরকালের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

সুরা তাকাসুর আরবি বাংলা উচ্চারণ অর্থ بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ১. أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ উচ্চারণ: আল-হা-কুমুত তাকা-ছুর। অর্থ: (পার্থিব ভোগ সামগ্রীতে) একে অন্যের ওপর আধিক্য লাভের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে উদাসীন করে রেখেছে। ২. حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ উচ্চারণ: হাত্তা জুরতুমুল মাকা-বির। অর্থ: যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছাও। ৩. كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ উচ্চারণ: কাল্লা সাওফা তালামুন। অর্থ: কখনোই এমনটি নয়, শিগগিরই তোমরা তা জানতে পারবে। ৪. ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ উচ্চারণ: ছুম্মা কাল্লা সাওফা তালামুন। অর্থ: আবারও শোন, শিগগিরই তোমরা তা জানতে পারবে। ৫. كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ উচ্চারণ: কাল্লা লাউ তালামুনা ইলমাল ইয়াকিন। অর্থ: কখনো নয়! তোমরা যদি নিশ্চিত জ্ঞানের সঙ্গে বিষয়টি জানতে (তবে এমনটি করতে না)। ৬. لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ উচ্চারণ: লাতারাউন্নাল জাহিম। অর্থ: তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে। ৭. ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ উচ্চারণ: ছুম্মা লা-তারাউন্নাহা আইনাল ইয়াকিন। অর্থ: তোমরা অবশ্যই তা দেখবে চাক্ষুষ প্রত্যয়ে (নিশ্চিত বিশ্বাসে)। ৮. ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ উচ্চারণ: ছুম্মা লাতুসআলুন্না ইয়াওমা ইজিন আনিন নাইম। অর্থ: অতঃপর সেদিন তোমাদের নেয়ামতগুলো সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সুরা তাকাসুরের শানে নুজুল ও প্রেক্ষাপট

তাকাসুর শব্দের অর্থ প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা বা অহংকার। মক্কার দুটি গোত্র (বনি আবদে মানাফ ও বনি সাহাম) নিজেদের সংখ্যাধিক্য ও আভিজাত্য নিয়ে গর্ব করতে করতে একপর্যায়ে কবরস্থানে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে বড়াই শুরু করে। এই হীন মানসিকতা ও আখিরাত ভুলে দুনিয়া নিয়ে মত্ত থাকার পরিণামেই এই সুরা নাজিল হয়।

এই সুরার মূল বিষয়বস্তু

  • ১. দুনিয়ার মোহ: মানুষ ধন-সম্পদ, সন্তান ও জনবল নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে আখিরাতের কথা ভুলে যায়।
  • ২. মৃত্যুর পর বাস্তবতা: মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত এই মোহ থেকে মুক্ত হয় না, যতক্ষণ না সে কবরে প্রবেশ করে।
  • ৩. নেয়ামতের হিসাব: শেষ আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা আমাদের যে নেয়ামত (স্বাস্থ্য, সময়, আহার, পানি) দিয়েছেন, কিয়ামতের দিন তার প্রতিটি কণার হিসাব দিতে হবে।

সুরা তাকাসুরের ফজিলত

হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার আয়াত পাঠ করতে পারবে?’

সাহাবিরা আরজ করলেন, ‘কার শক্তি আছে এক হাজার আয়াত পাঠ করার?’

তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমাদের কেউ কি সুরা তাকাসুর পাঠ করতে পারো না?’ (মুসতাদরাকে হাকেম)। অর্থাৎ, সুরা তাকাসুর একবার পাঠ করা এক হাজার আয়াত পাঠের সমান সওয়াব বহন করে।

সুরা তাকাসুরের শিক্ষা

সুরা তাকাসুর আমাদের হৃদয়ে আখিরাতের ভয় জাগ্রত করে। এটি আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার এ ক্ষণস্থায়ী জৌলুশ যেন আমাদের আসল গন্তব্য জান্নাত থেকে বিমুখ না করে। প্রতিদিন এই সুরা পাঠের মাধ্যমে আমরা আমাদের লোভ নিয়ন্ত্রণ ও কৃতজ্ঞতার মনোভাব গড়ে তুলতে পারি।

ইসলামের চার খলিফার নাম ও শাসনকাল

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আদর্শ শাসকের ১০ গুণাবলি

রমজানের ৫ প্রস্তুতি

মোহরে ফাতেমি কাকে বলে, পরিমাণ কত?

মসজিদে কুবা: যেভাবে নির্মাণ হয় ইসলামের প্রথম মসজিদ

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সুরা তিন: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও তাফসির

সুরা ইনশিরাহ: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ব্যাখ্যা

১৯ তারিখ রমজান শুরু হতে পারে, জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত