বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পরও যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (৫ মে) পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, আমরা নিজেদের রক্ষা করব এবং জোরালোভাবে রক্ষা করব এবং সেটাই আমরা করছি।’ ইরান এই বিষয়ে অবগত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘনে রূপ নেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নেবেন।
যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার মতো পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে পৌঁছালে তা ঘটবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, ইরানের বর্তমান কার্যক্রম ‘নিম্নমাত্রার’ এবং আপাতত ‘উত্ত্যক্ত করার’ পর্যায়ে রয়েছে।
একই সময়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘কামিকাজে ডলফিন’ ব্যবহারের গুজব উড়িয়ে দেন হেগসেথের কার্যালয়ের এই কর্মকর্তা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের কোনো সক্ষমতা ইরানের নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কৌশলগতভাবে এগিয়ে আছে বলে দাবি করেন হেগসেথ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান সরকার পতনের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট কোনো কিছুতেই নতি স্বীকার করেননি। সবকিছু এখনো তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতকে ‘রাষ্ট্র মেরামত প্রকল্পে’ পরিণত করতে চায় না।
এদিকে জেনারেল কেইন জানান, এখন পর্যন্ত ইরানের হামলা যুদ্ধ পুনরায় শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করেনি। ঠিক কোন মাত্রার হামলা সেই সীমা অতিক্রম করবে, তা নির্ধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ইরান বর্তমানে ছোটখাটো ও হয়রানিমূলক হামলা চালাচ্ছে এবং কার্যত দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং সম্মুখসারিতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে তারা হিমশিম খাচ্ছে।