ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায় প্রতিদিনের হুমকির মুখে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নন এমন কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। আজ সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পূর্বসতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা পরিবেশ পর্যালোচনা করছি। সর্বশেষ পর্যালোচনার ভিত্তিতে আমরা আমাদের উপস্থিতি কমিয়ে কেবল প্রয়োজনীয় জনবল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে দূতাবাস বন্ধ হচ্ছে না, কোর স্টাফদের নিয়ে কার্যক্রম চালু থাকবে। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা।’
২০২৪ সালে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও, তারা এখনো একটি বড় শক্তি। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হলে হিজবুল্লাহ যে তাতে হস্তক্ষেপ করবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। ইরানকে সমর্থন দিতে তারা আবারও সামরিক তৎপরতা শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন।
লেবাননে মার্কিন মিশনগুলোর ওপর অতীতে বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮৩ সালে লেবাননে গৃহযুদ্ধের সময় বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসে গাড়ি বোমা হামলায় ১৭ জন আমেরিকানসহ কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন। একই বছর মেরিন কোরের ব্যারাকে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় ২৪১ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারান। মূলত সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে ট্রাম্প প্রশাসন।