ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যয় হওয়ায় ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে বলে মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে, পেন্টাগন এখন তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মজুত করা অস্ত্র ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে কিয়েভের জন্য নির্ধারিত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের চালান আগামী মাসগুলোতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ শুক্রবার প্যারিসের প্রান্তে অনুষ্ঠিত জি-৭ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ইউরোপীয় তিন কর্মকর্তার মতে, ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত অস্ত্রের চালান বিশেষ করে প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্টের (পিইউআরএল) অধীনে থাকা সরবরাহগুলো ইরানমুখী করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকার মুখপাত্র হেওরহি টিখই জানিয়েছেন, রুবিওর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে ও ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য মিত্রদের কেনা অস্ত্রের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে পর্দার আড়ালে ন্যাটো কূটনীতিকেরা সতর্ক করেছেন, পিইউআরএল শিপমেন্ট উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এ সপ্তাহে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে লক্ষ্য অর্জনের ‘খুব কাছাকাছি’ রয়েছে।
এ বিষয়ে পেন্টাগন সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের জয়ী হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হবে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যদি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তবে ওয়াশিংটনকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ইউক্রেনের বদলে মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।