হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

মোদি আমার ভালো বন্ধু, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি শিগগির: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আবারও ‘ভালো বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বিদ্যমান মতপার্থক্য সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি শেষ পর্যন্ত একটি বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে খুবই পছন্দ করি। তিনি আমার ভালো বন্ধু এবং আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। আমাদের সম্পর্কও ভালো।’

তিনি ইঙ্গিত দেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাম্প অতীতের বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার প্রসঙ্গও তোলেন এবং অভিযোগ করেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা নিয়েছে। তারা আমাদের পণ্যের ওপর বিপুল শুল্ক আরোপ করেছে এবং কিছুই পরিশোধ করেনি। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো, আর আমরা ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করে অনেক অর্থ উপার্জন করছি।’ তবে এসব উদ্বেগের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আলোচনার ফলাফল নিয়ে আশাবাদী অবস্থান প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তবে আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’

তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে উভয় পক্ষই এখনো সমঝোতার পথ খুঁজতে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মন একসময়ে এল, যখন দুই দেশের কর্মকর্তারা ১ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বাণিজ্য আলোচনা শেষ করেছেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) এবং ভারতীয় কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলগুলো বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। এর মধ্যে ছিল—পণ্য বাণিজ্য, কাস্টমস প্রক্রিয়া, অশুল্ক বাধা বা নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার, বাণিজ্য সহজীকরণ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা।

উভয় পক্ষই আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করে জানিয়েছে, একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির পাশাপাশি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত। তবে আলোচনা কিছুটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, কারণ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুল্ক সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা চালাচ্ছে।

এই প্রস্তাবিত পর্যালোচনার আওতায় ভারতসহ মোট ৬০টি দেশ রয়েছে। এটি মূলত জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমদানি পণ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রস্তাব অনুযায়ী—যেসব দেশের জোরপূর্বক শ্রমসংশ্লিষ্ট আমদানির ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, তারা ১০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে পারে এবং যেসব দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেই, তাদের ওপর সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

এই পর্যালোচনার আওতায় ভারতের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা। তবে শুল্কসংক্রান্ত এই জটিলতা সত্ত্বেও উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বলেন, আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং কেবল সীমিত কয়েকটি বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চুক্তির অধিকাংশ বিষয় ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে আলোচনায় মূলত শেষ মুহূর্তের কিছু বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। যদিও শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে, তবুও প্রস্তাবিত শুল্ক ব্যবস্থা বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য বাধা হয়ে থাকতে পারে।

ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে চুক্তির প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজ দলের চাপে ট্রাম্প, যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস

আমি এ রকমই: ট্রাম্প

লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুকে গালিগালাজের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প

মার্কিনিদের দানকৃত মরদেহ ইসরায়েলি বাহিনীর চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার, ক্ষুব্ধ স্বজনেরা

অনভিজ্ঞ বিল পুল্টেকে নতুন গোয়েন্দাপ্রধান করলেন ট্রাম্প

মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছেন রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ৬ জন নিহত

ইরান যুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা