যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে অর্থাৎ, দখল করতে ওয়াশিংটনের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। এ সময় তিনি আরও জানান, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা হোসেইনি খামেনির সঙ্গে তিনি দেখা করতে চান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এখনই এটি (ইরানের ইউরেনিয়াম) পেতে পারি। আমার মনে হয় না, আমরা চাইলে তারা আমাদের থামাতে পারবে। তবে এর কোনো কারণ নেই। এটি সমাধিস্থ অবস্থায় আছে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেখা করতে চান না। তবে তিনি যোগ করেন, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়, তাহলে তাদের দুজনের সাক্ষাৎ হওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি তা ঘটে...আমি সম্মানজনক আচরণ করব।’
এদিকে, গত বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর সাক্ষাৎকারের বড় অংশজুড়ে ছিল ইরান প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ইরান এমন একটি বিষয়, যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই উদ্বেগের কারণ। তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে তিনি ও ট্রাম্প একই অবস্থানে রয়েছেন।
দখলদার রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ‘যেসব বিষয়ে আমরা একমত, তার মধ্যে রয়েছে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া এবং সেই অস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া।’
দখলদার রাষ্ট্রটির প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের নেতৃত্বের ওপর চাপ বেড়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরে চাপের লক্ষণও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দুই নেতার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে প্রতি দুই দিন পর পর কথা বলি।’
ইরানকে লক্ষ্য করে চাপ প্রয়োগ, তেহরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি বৃহত্তর সমঝোতা অর্জনের প্রচেষ্টাসহ ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকারও প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু।