প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সরাসরি প্রশ্ন করার একটি বিরল সুযোগ পেয়েছেন দেশটির সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) সদস্যরা।
রয়টার্স জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দের অনুরোধ নিয়ে দুই দিনব্যাপী দুটি শুনানিতে সাক্ষ্য দেবেন রুবিও। এর মধ্যে প্রথম শুনানিটি মঙ্গলবার (২ জুন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক খাতে খরচ ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আর এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাতে তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৩০ শতাংশ কমানোর একটি প্রস্তাব এনেছে, যার জন্য এখন কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
রুবিও একই সঙ্গে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে তিনি প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে কথা বললেও, চলমান যুদ্ধ নিয়ে এর আগে কখনোই প্রকাশ্যে কোনো সাক্ষ্য দেননি।
আগামী নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে তাদের সামান্য ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না। তাই নির্বাচনের আগেই ট্রাম্প যাতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের (গ্যাসোলিন) দাম কমিয়ে আনতে পারেন—এমনটাই আশা করছেন তাঁর দলের সহকর্মী রিপাবলিকানেরা।
ট্রাম্পকে তাঁর নিজের দলের ভেতরে থাকা ইরান-বিরোধী চরমপন্থীদেরও সামলাতে হচ্ছে, যারা তেহরানের প্রতি যে কোনো ধরনের নমনীয়তা বা ছাড় দেওয়ার ঘোর বিরোধী।
ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন সদস্যসহ বহু আইনপ্রণেতা ইরানের ওপর মার্কিন কৌশল এবং অন্যান্য বৈদেশিক নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য দাবি করেছেন। রুবিও তাই বড় ধরনের পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।