কানাডায় অনলাইনে বিষাক্ত রাসায়নিক বিক্রি করে আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত কেনেথ ল’ নামের এক ব্যক্তি আদালতে ১৪টি অভিযোগ স্বীকার করেছেন। শুক্রবার (২৯ মে) অন্টারিওর একটি আদালতে ৬০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সাবেক এই শেফ অনলাইনে আত্মহত্যা–সংক্রান্ত ফোরামের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং তাঁদের কাছে বিষাক্ত রাসায়নিক পাঠাতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ৪০টি দেশে ১ হাজার ২০০ টির মতো প্যাকেজ পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে।
ব্রিটিশ ভুক্তভোগীদের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, যুক্তরাজ্যে ৭৯ জনের মৃত্যুর সঙ্গে কেনেথ ল’-এর যোগসূত্র থাকলেও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি। তবে যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, কানাডার বিচার প্রক্রিয়ায় ব্রিটিশ ভুক্তভোগীদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আদালতে উঠে আসে, কেনেথ ল’ যুক্তরাজ্যের ২৮৬ জন গ্রাহকের কাছে ৩৩০টি প্যাকেজ পাঠিয়েছিলেন। স্কটল্যান্ডে পাঁচজন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে একজনের মৃত্যুর সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে।
কানাডার অন্টারিওর ১৯ বছর বয়সী অ্যাশটিন প্রসার-ব্লেক ছিলেন কেনেথ ল’-এর এক ভুক্তভোগী। তাঁর মা কিম প্রসার বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ছেলের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের থমাস পারফেট নামের এক তরুণও এই রাসায়নিক ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বাবা ডেভিড পারফেট এ ঘটনায় জনস্বার্থে তদন্ত দাবি করেছেন।
২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়া কেনেথ ল’-এর বিরুদ্ধে তদন্তে অন্তত ১১টি আইনশৃঙ্খলা সংস্থা কাজ করেছে। আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে কানাডার আইনে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।