এক হৃদয়বিদারক আবহে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) তাদের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরাল ডিগ্রি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত এপ্রিলে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া এই দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মেধা ও পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২৬ সালের স্প্রিং গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে নাহিদা ও জামিলকেও এই সম্মাননা দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে রোববার (১০ মে) পর্যন্ত চলমান এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রতিটি সেশনের শুরুতে নিহত এই দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে ডক্টরাল ডিগ্রি প্রদানের বিশেষ অনুষ্ঠানে অ্যারেনার ফ্লোরে দুটি খালি চেয়ারে গ্র্যাজুয়েশন গাউন বা রেগালিয়া রাখা থাকবে, যা সম্পূর্ণভাবে নাহিদা ও জামিলের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। এ বছর মোট ৩৫৩ জন ডক্টরাল ডিগ্রি প্রাপকদের তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল শেষবারের মতো জনসমক্ষে এসেছিলেন। এর কয়েক দিন পর তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর ঠিক দুদিন পরে ম্যানগ্রোভ বনের কাছে নাহিদার খণ্ডিত দেহাবশেষ পাওয়া যায়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রসহ হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি হিলসবোরো কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটক রয়েছেন।
এই মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর অকালপ্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটি এবং স্থানীয় বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরণোত্তর এই ডিগ্রি তাঁদের পরিবারের জন্য এক বেদনাদায়ক কিন্তু গর্বের স্বীকৃতি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গতকাল মঙ্গলবার জানায়, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ আগামী ৯ মে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর আগে ৪ মে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়।
জামিল আহমেদ লিমনের বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকায়। তিনি জহুরুল হকের ছেলে। আর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকায়। তিনি জহিরুদ্দিনের মেয়ে। লিমনের মরদেহ জামালপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: