ট্রাম্প প্রশাসন, ইরান নিয়ে নিজেদের তৈরি করা জটিল পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসবে, তা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের একটি চুক্তিতে রাজি করাতে এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ ও ধারণা সংগ্রহ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে লিখেছেন, ‘ইরানকে চাপ দেওয়া ও শায়েস্তা করার জন্য আমরা নতুন, সৃজনশীল এবং প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কী করা যায়, সেই উপায় খুঁজছি।’
সেন্টকমের এক মুখপাত্র অবশ্য বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাঁর ভাষায়, সেন্টকমের ‘নতুন ও উদ্ভাবনী উপায়ে চিন্তা করা এবং কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।’ তবে ওই ই-মেইল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই সংঘাত এত দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে পেন্টাগন সম্ভবত শুরুতে পরিকল্পনা করেনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ বারবার শুরু ও স্থগিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। এই সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ট্রাম্পের ভোটারদের ওপরও।
এর আগে, গতকাল রোববার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি ‘উত্তেজনা কমাতে সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা’ এবং ‘যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর গুরুত্বের’ ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, এমন একটি যুদ্ধবিরতি হলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে, এমন দাবি ইরান নাকচ করেছে। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করার পর দাবি করেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সোমবার থেকে আলোচনা শুরু হবে। নতুন করে ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে চান। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই, তারা হামলার শিকার হতে চায় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি, অর্থাৎ আমরা তাদের সঙ্গে একটি সমঝোতার জন্য কথা বলছি। আগামীকাল বিকেল থেকে এটি শুরু হচ্ছে।’
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘গঠনমূলক’ এবং এর লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন পথ বা ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো।
এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি না। হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য আমরা ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক এলাকার বাইরের সব পক্ষ ইরানের এই দায়িত্বশীল পদক্ষেপকে মূল্যায়ন করবে এবং একটি গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করবে।’ বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ যতদিন চলবে, ‘হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিতেও কোনো পরিবর্তন আসবে না।’