মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল্ট ডিজনির মালিকানাধীন এসিবি চ্যানেলের সঞ্চালক জিমি কিমেলকে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছুদিন আগে ট্রাম্পের স্ত্রী ও মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে কৌতুক করায় এই আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হোয়াইট হাউস করসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডিনার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যে কিমেল ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মিসেস ট্রাম্প, আপনাকে এমন দেখাচ্ছে যেন কোনো আপনি বিধবা।’ কিমেল ‘Jimmy Kimmel Live!’ —নামক একটি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। তিনি, গত ২৩ এপ্রিল এই অংশটি পরিবেশন করেন।
আর তাতেই চটেছেন ট্রাম্প। স্ত্রীর ‘অপমানে’ ক্ষুব্ধ’ হয়ে ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, ‘অনেক মানুষ কিমেলের জঘন্য সহিংসতার আহ্বানে ক্ষুব্ধ—আমি এটার প্রশংসা করি। সাধারণত তিনি যা বলেন, তাঁর কোনো জবাব দিতাম না। কিন্তু বিষয়টি সীমা অনেক দূর ছাড়িয়ে গেছে। ডিজনি এবং এবিসির উচিত অবিলম্বে জিমি কিমেলকে বরখাস্ত করা।’
ডিজনি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সোমবার ফার্স্ট লেডিও এবিসিকে কিমেলের বিরুদ্ধে ‘দৃঢ় অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘কিমেলের ঘৃণামূলক ও সহিংস বক্তব্য আমাদের দেশকে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে করা। আমার পরিবার নিয়ে তাঁর মনোলগ কোনো কমেডি নয়। তাঁর কথাগুলো ক্ষয়িষ্ণু এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অসুস্থতাকে আরও গভীর করছে। আমাদের সমাজের ক্ষতির বিনিময়ে এবিসি কতবার কিমেলের ভয়ংকর আচরণকে সমর্থন দেবে?’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও সোমবারের ব্রিফিংয়ে কিমেলকে সমালোচনা করেন।
কিমেল মেলানিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করেন গত শনিবার। সেদিন বন্দুকধারী কোল অ্যালেন ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারে গুলি চালান। গুলির সময় ফার্স্ট লেডি প্রেসিডেন্টের পাশে বসে ছিলেন। তিনি টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন এবং পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। ট্রাম্প পরে বলেন, ঘটনাটি ফার্স্ট লেডির জন্য ‘মানসিকভাবে আঘাতজনক’ ছিল।
এর আগেও, গত সেপ্টেম্বরে ডিজনি সাময়িকভাবে কিমেলের অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। ওই সময় কিমেল ট্রাম্পের এক প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গ করেছিলেন। চার দিন বিরতির পর কিমেল এবিসিতে ফিরে আসেন। তাকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দর্শক, মিডিয়া পর্যবেক্ষক, সেলিব্রিটি এবং অন্যান্য লেট-নাইট সঞ্চালকদের তীব্র সমালোচনা ছিল।