যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে তাঁর দেশ ‘বিশাল ব্যবধানে যুদ্ধ জিতছে।’ আর এই জয় দেখেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখন তাঁর সঙ্গে ইরান যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন। কিন্তু এখন আর তার প্রয়োজন নেই। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের দুটি প্রধান বিমানবাহী রণতরির একটি এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়’ রাখা হয়েছে।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্য, আমাদের একসময়ের মহান মিত্র, সম্ভবত সবার মধ্যেই সবচেয়ে মহান, অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, এখন আর আমাদের সেগুলো দরকার নেই। তবে আমরা বিষয়টি মনে রাখব। আমরা এমন লোকদের দরকার মনে করি না, যারা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এসে যোগ দেয়।’
পোস্টটিতে যুক্তরাজ্যকে ‘একসময়ের মহান মিত্র’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা আরও গভীর হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে সেই বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। এই যুদ্ধ তারা শুরু করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি।
এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। তেহরান পাল্টা হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এ পর্যন্ত ইরানে আনুমানিক ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও নিশ্চিত করেছে, তাদের ছয়জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া লেবানন, কুয়েত, আরব আমিরাত, ইরাকসহ আরও কয়েকটি দেশে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধকে অনেকে অবৈধ বলে মনে করেন। তবু যুক্তরাজ্য সরকার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। গতকাল যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ‘সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ বিশাল ব্যবধানে জিতছি। তাদের পুরো দুষ্ট সাম্রাজ্যকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থলবাহিনী পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি প্রেসিডেন্ট বলে, স্থলবাহিনী পাঠানো হবে না। আমি কিন্তু তা বলি না।’
অপর দিকে ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হতাহতের আশঙ্কা করছি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি বিশ্বের জন্য একটি বড় অর্জন হবে।’ তিনি ধারণা দিয়েছেন, এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এই যুদ্ধ ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তি মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন-মাগার মধ্যেও বিভাজন তৈরি করেছে। তাঁর সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে অনেক সমর্থকই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ শুরু করবেন না।