হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

আলোচনা করো, নইলে বোমা মারব: ইরানকে ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরান যদি আবার আলোচনায় ফিরে না আসে, তবে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তারা যদি আলোচনার টেবিলে না আসে এবং সমঝোতায় না পৌঁছায়, তাহলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব। আমরা তাদের সব সেতুও উড়িয়ে দেব।’

সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয় এমন সময়ে, যখন টানা চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা-পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের হুমকি থেকে সরে এলেও, তিনি আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেন।

গত এপ্রিলেও ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ।’

১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা চালানো নিষিদ্ধ। ফক্স নিউজের অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘জ্বালানি-সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দেব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা জ্বালানি অবকাঠামোকেও আঘাত করব।’ তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন আলোচকরা ইরানি প্রতিনিধিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন যে, ‘তোমরা ভালোভাবে একটি চুক্তি করে নাও, না হলে তোমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান আসে এমন সময়ে, যখন তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ‘বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি’ করার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে সাত ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালায় এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ‘ডজনখানেক সামরিক লক্ষ্যবস্তু’তে হামলা চালানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল ‘বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও বেসামরিক নাবিকদের হুমকির মুখে ফেলার সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া।’

ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, বুধবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাম্পুরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাতজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আইআরআইবি জানায়, তেহরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম গত এপ্রিলে দেশটির সব বন্দরের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করে। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, এই অবরোধের কারণে তারা ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে এবং চারটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে।

জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিরোধ আবারও দুই দেশের মধ্যে প্রধান উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এদিকে, জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে কোমায়—মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে নববধূর আবেগঘন বার্তা

হরমুজে টোল আদায়ের ঘোষণা থেকে সরলেন ট্রাম্প, উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র

আদালত অবৈধ ঘোষণার পর শুল্কের ৮১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিল ট্রাম্প প্রশাসন

ফের ‘যুদ্ধ শুরুর’ ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বললেন, চুক্তি এখনো ‘সম্ভব’

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, পণ্য পরিবহনে ২০ শতাংশ ফি চান ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হতে চান ট্রাম্প, নিরাপত্তার জন্য নেবেন ফি

মেক্সিকোর ‘ফেন্টানিল সম্রাট’ বনে যান এক চীনা স্নাতক

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইঞ্জিনিয়ারকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী

টরন্টোতে লাতিন উৎসবে বন্দুক হামলা, নিহত অন্তত ২