যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই দফায় ইরানের একটি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান, কয়েকটি ছায়া কোম্পানি এবং তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পরিবহনে ব্যবহৃত ১৯টি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ও জাহাজ ইরানকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সহায়তা করছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানভিত্তিক ‘আমিন এক্সচেঞ্জ’ (ইব্রাহিমি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পার্টনারশিপ কোম্পানি নামেও পরিচিত) সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত একাধিক ফ্রন্ট কোম্পানির মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানি ব্যাংকের পক্ষে শত শত মিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন সংঘাতের অবসান, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, ইরানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ‘ইরানের শ্যাডো ব্যাংকিং সিস্টেম অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে ভূমিকা রাখছে।’ তিনি জানান, ‘ইকোনমিক ফিউরি’ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে তেহরানের ছায়া আর্থিক নেটওয়ার্ক ও ছায়া নৌবহর ভেঙে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের নিংবো জিয়ারুই ট্রেডিং, হংকংভিত্তিক স্টারশাইন পেট্রোকেমিক্যাল ও ভিগোরাস ট্রেডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোল্ড ট্রেডিং এফজেডই সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বার্বাডোজ পতাকাবাহী ‘গ্রেট সেইল’, পলাও নিবন্ধিত ‘ওশান ওয়েভ’ এবং পানামা নিবন্ধিত ‘সুইফট ফ্যালকন’ নামের জাহাজগুলোকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হবে এবং মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা নিষিদ্ধ থাকবে।