যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে এক ভারতীয় মুসলিম কর্মীর ওপর নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি মুসলিম?’ এই প্রশ্নে ‘হ্যা-সূচক’ উত্তর পাওয়ার পরই তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান।
বুধবার (১৫ জুলাই) এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত সোমবার ইউটার ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের একটি কিয়স্কে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। পরে অভিযুক্ত ৪৮ বছর বয়সী পিটার মাইকেল লারসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন, মুসলিম হওয়ার কারণেই ওই কর্মীর ওপর তিনি হামলা চালান। আদালতের নথি অনুযায়ী—লারসেন বলেছেন, তিনি মুসলিমদের হত্যা করতে চান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলার শিকার ব্যক্তির নাম সোহাইল। ভারতীয় পরিচয় দিয়ে তিনি নিজেকে মুসলিম দাবি করার পরই লারসেন তাঁর ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
ইউটা ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শুয়াইব দিন জানান, হামলার আগে অভিযুক্ত সোহাইলের কাছে এক বোতল পানি চান। সোহাইল পানি আনতে ঘুরে দাঁড়াতেই লারসেন ছুরি বের করে আক্রমণ করেন।
স্থানীয়দের উদ্যোগে খোলা একটি ‘গো-ফান্ডমি’ তহবিলের তথ্যমতে, সোহাইলকে অন্তত ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন সাহসী পথচারী ও মলের কর্মী লারসেনকে ধরে ফেলেন এবং মাটিতে চেপে রেখে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতি ঠেকান। পরে পুলিশ লারসেনকে গ্রেপ্তার করে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, তার সহিংস মতাদর্শ ও পরিকল্পিত হামলার প্রবণতার কারণে তিনি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
সোহাইলের সহকর্মীরা তাঁকে পরিশ্রমী ও হাসিখুশি মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দুই সন্তান ও স্ত্রী রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তাঁর চিকিৎসা ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোহাইলের ব্যবস্থাপক আদনান মোহাম্মদ এই ঘটনাকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ উল্লেখ করে বলেন, ‘ঘৃণার কোনো স্থান নেই। একজন মানুষকে হত্যা মানে শুধু একজনকে নয়, একটি পুরো পরিবারকে ধ্বংস করা।’ আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লুনা নুনেজ জানান, হামলা ঠেকাতে তিনি জুতা, চেয়ার—হাতে যা পেয়েছেন, তাই ছুড়ে মেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, তিনি বাঁচবেন না।’
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, অভিবাসীবিরোধী বক্তব্য, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী তৎপরতা এবং গাজা যুদ্ধকে ঘিরে উত্তেজনা এমন ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।