আধুনিক যুদ্ধবিমানের ভিড়েও নিজের অপরিহার্যতা আবারও প্রমাণ করল মার্কিন বিমানবাহিনীর শক্তিশালী অ্যাটাক বিমান এ-১০ ‘ওয়ার্টহগ’। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই যুদ্ধবিমানের অবসরের সময়সীমা ২০২৬ থেকে বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে পেন্টাগন।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন বিমানবাহিনীমন্ত্রী ট্রয় মেঙ্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রতিরক্ষাশিল্প যখন নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের উৎপাদন বাড়াতে কাজ করছে, তখন বর্তমান লড়াইয়ে সামরিক শক্তি বজায় রাখতেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
১৯৭৬ সালে প্রথম উড্ডয়ন করা এই বিমান গত দুই দশক ধরে পেন্টাগনের ‘অবসর’ তালিকায় ছিল। বিমানবাহিনীর একটি বড় অংশের দাবি ছিল, এটি বর্তমানে অত্যন্ত পুরোনো, ধীরগতির এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা ব্যয়বহুল। তারা বিমানটি বসিয়ে দিয়ে হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরিতে সেই অর্থ ব্যয়ের পক্ষপাতী ছিল।
তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে এ-১০ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে, এর নাকে বসানো শক্তিশালী ‘গ্যাটলিং গান’ বা কামানের গোলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলোকে রুখে দিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি পেন্টাগনের।
বিমানটির টিকে থাকার পেছনে যতটা না সামরিক কারণ রয়েছে, তারচেয়ে বেশি রয়েছে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব। এ-১০ ফ্লিটের একটি বড় অংশ অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডেভিস-মনথান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত। এই বিমানঘাঁটি স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং অঞ্চলটির অন্যতম বড় নিয়োগকর্তা।
অ্যারিজোনার প্রভাবশালী সিনেটর মার্ক কেলি গত কয়েক বছর ধরেই বিমানটি অবসরে পাঠানোর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর যুক্তি ছিল, স্থল সেনাদের আকাশ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এরচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প না পাওয়া পর্যন্ত এটি অবসরে পাঠানো আত্মঘাতী হবে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অ্যারিজোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেট’-এর স্বার্থ রক্ষা করাও পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যদিও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তবে বিমানবাহিনী কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে—পুরোনো এই বহর রক্ষণাবেক্ষণ করতে গিয়ে নতুন প্রজন্মের বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় মেকানিক বা প্রকৌশলীর সংকট দেখা দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ঝুঁকি না নিয়ে ‘পরীক্ষিত যোদ্ধা’ ওয়ার্টহগের ওপরই আস্থা রাখল ট্রাম্প প্রশাসন।